উৎসব আনন্দে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিনব্যাপী উৎসব আনন্দে বরণ করা হচ্ছে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ, বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকজ পরিবেশনা ও কনসার্ট সব অয়োজন মিলিয়ে এবারের নববর্ষ উদযাপনে উৎসবের বহু রূপ নিয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় দিনভর উৎসবের যত আয়োজন

পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরের শুরুতে ভোরে ৬টায় রাজধানীর রমনা বটমূলে এ ছায়ানটের পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষের সূচনা হয়। এরপরই সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা।

একই সময় বর্ষবরণ পর্ষদের উদ্যোগে বাঙালির ঐতিহ্য ও শোভাযাত্রার মূল ভাবধারার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে আলাদা একটি আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে।

বর্ষবরণের বিশেষ আয়োজন রেখেছে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। এখানে ১ থেকে ৫ বৈশাখ পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী লোকজ উৎসব ও মেলার আয়োজন রয়েছে। এখানে ঢাকঢোল, লাঠিখেলা, জারি, সারি, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে অর্কেস্ট্রা, ধামাইল নৃত্য ও যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হয়।

এছাড়া বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জমকালো ব্যান্ড কনসার্ট। ১ বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই লাইভ কনসার্টে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দলগুলো অংশ নিচ্ছে। তরুণদের বিপুল অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন এবারের বৈশাখের অন্যতম বড় লাইভ মিউজিক ইভেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই দিনে মানিক মিয়া এভিনিউ-এ উন্মুক্ত সংগীতানুষ্ঠানে একাধিক তারকা শিল্পী পারফর্ম করছেন।

নগর তরুণ সংস্কৃতির নতুন ধারা হিসেবে কোর্টসাইড এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিউরেটেড সংগীত উৎসব ‘কার্পে ডিয়েম-লাল বৈশাখী ১৪৩৩’, যেখানে আধুনিক ব্যান্ড ও লোকসংগীত ফিউশনের মিশ্র পরিবেশনা থাকছে। এছাড়া রাজধানীর বনানীতে ‘যাত্রা বিরতি’ আয়োজন করছে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন ও লোক মেলার। সঙ্গে থাকছে ব্যান্ড দলের পারফর্ম।

ঢাকার বাইরে যত আয়োজন

এছাড়া ঢাকার বাইরেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। জয়পুরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ  উদযাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে শহরের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় আনন্দ শোভা যাত্রা বের করা হয়। পরে কালেক্টরেট মাঠে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

জয়পুরহাট

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জেও বর্নাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। এদিন সকালে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি ও নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে প্রভাতী অনুষ্ঠানে বাঁশি, তবলা লহড়া, সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশিত হয়। পরে শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় গ্রাম বাংলার ঐতিয্যের বহনকারী সাজ সজ্জায় এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানুষ অংশগ্রহন করেন। পালকি, ঘোড়ার গাড়ি,হাতি, কৃষক সাজে  হিন্দু মুসলিম খ্রিষ্ঠান বৌদ্ধ সকল ধর্মের প্রদর্শন হয়েছে এই মিছিলে।

নারায়ণগঞ্জ

পটুয়াখালীর দুমকিতেও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পুলিশ, আনসার ও স্কাউট সদস্যরা অংশ নেন।

গজারিয়া

পিরোজপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বাংলার নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ পালন উপলক্ষে সকাল আটটায় শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আফতাব উদ্দিন কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

মুরাদনগর

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাদারীপুরেও নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। সকালে শহরের লেকের পাড় মুক্তমঞ্চে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জেলা শিশু একাডেমী ও শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা নেচে, গেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। পরে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। 

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,  গ্রামীণ খেলাধুলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  আখাউড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে।