বাংলাদেশের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবান্বিত। আমরা লড়াই সংগ্রাম করে এই পর্যন্ত এসেছি। একটা উদ্দেশ্য যাতে দেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় চবি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “আজকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে তিনটি অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে অত্যন্ত আনন্দময় পরিবেশ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবার মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখেছি, এই সৌহার্দ্য দেখে আমি সত্যিই খুশি। এই আয়োজন নিয়ে বলব, আলহামদুলিল্লাহ, সফল হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক জীবনে অনন্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার জানাজায় এক কোটি মানুষের উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয় তিনি কেমন রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ তাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সেই ধারাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রংধনু জাতির’ কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই হেঁটেছিলেন বেগম জিয়া। তার পুরো রাজনৈতিক জীবন স্বমহিমায় উজ্জ্বল।”
এবারের বৈশাখী উৎসবে ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে নানা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চবি প্রশাসন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) সহযোগিতায় আয়োজিত বৈশাখী উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর থেকে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। বেলা সাড়ে ১১টায় জারুলতলায় বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষকবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে পুতুল নাচ, মুক্ত মুঞ্চে বলি খেলা, শহীদ আব্দুর রব হলের মাঠে কাবাডি খেলা, চাকসু প্রাঙ্গণে বউচি খেলাসহ বুদ্ধিজীবী চত্বর ও শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় দুদিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা।