সহযোদ্ধা, সহকর্মীদের নিয়ে আফজাল হোসেনের স্ট্যাটাস

কাজ কম করলেও সোশ্যাল মিডিয়া সরব নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। প্রায় সময়ই লেখায় উঠে আসে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের ভেতরের গল্প। এবার তিনি স্মরণ করলেন তার সহযোদ্ধা, সহকর্মী ও নাট্যজীবনের পথচলার মানুষদের। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘এই ছবিটা একাত্তর সনের। সামনে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি অসীম সাহসী একজন গেরিলা কমান্ডার। দেশের বহু মানুষের কাছে তিনি অতি সম্মানীয়। তিনি সম্মানীয় যুদ্ধকালে এবং পরবর্ত্তী অর্ধশত বছরেরও বেশী সময় ধরে দেশের সামাজিক, সাংষ্কৃতিক অঙ্গনে তার অসাধারণ অবদানের জন্য।’ 

তিনি আরও লেখেন, ‘যারা তাকে দূর এবং কাছে থেকে চেনেন জানেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, এই মানুষটা অত্যন্ত সমাজ সচেতন, মেধাবী ও বিস্ময়কর রকমের সৃজনশীল। যুদ্ধের শেষে তিনি ভেবেছিলেন, বড় একটা যুদ্ধ এখনো বাকি রয়ে গেছে। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য যেমন মানুষের দরকার, তিনি তেমন হৃদয় তৈরির অক্লান্ত চেষ্টায় নেমে পড়েন।’ 

নাট্যচর্চার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন ঢাকা থিয়েটার-এর কথা। তিনি লেখেন, ‘দেশ এবং জীবন গড়তে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা থিয়েটার। তার দর্শন ও বিশ্বাস, থিয়েটারের গভীরতা, আধুনিকতা দিয়ে মানুষ আলোকিত হবে। নিজের মনে আলো জমাতে পারলে, সেইসব মানুষের গুনগত মান দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে—এই দৃঢ় বিশ্বাসে তিনি জীবনের প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাস থিয়েটারে নিবেদন করেন।’ 

সত্তরের দশকের নাট্যচর্চা নিয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমরা যারা বিভিন্ন দলের নামে থিয়েটার করা শুরু করেছি, তারা প্রত্যেকেই দেশ, সংস্কৃতি ভালোবাসা মানুষ। যারা অর্থ বিত্ত, প্রতিপত্তি ইত্যাদির ধার না ধেরে, কোনো বিশেষ প্রাপ্তির আশা না করে থিয়েটারে, সংষ্কৃতির চর্চা ও অনুশীলনে মন প্রাণ ঢেলে দিয়েছি।’ 

সহকর্মীদের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমরা কারা, নামগুলো বললে বোঝা সম্ভব হবে, দীর্ঘ সময় ধরে দেশ, মানুষ ও সংস্কৃতির জন্য এ মানুষগুলোর ভূমিকা কেমন ছিল।’ এরপর তিনি স্মরণ করেন সেলিম আল দীন, রাইসুল ইসলাম আসাদ, হুমায়ূন ফরীদি, সুবর্ণা মুস্তাফা, শিমুল ইউসুফ, জামিল আহমেদ, ফারুক আহমেদ-সহ আরও অনেকের নাম।