জামালপুর জেলা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা কৃষিবিদ এস এম জিয়াউল হক জিয়ার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৯ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা কৃষিবিদ এস এম জিয়াউল হক জিয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দিগপাইত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দিগপাইত ডি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দিকপাইত ডি.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জিয়া। সভাপতি থাকাকালিন সময়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। শিক্ষক নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা দায়ের হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ১৫ জানুয়ারি তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, দুদকের একটি মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে জামালপুর জেলা কারাগারে আসেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নববর্ষ উপলক্ষ্যে জেলা কারাগারে দুপুরে উন্নত খাবারের আয়োজন ছিল। তিনি দুপুর ১ টার দিকে খাবার খান। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে তিনি অসুস্থ্যবোধ করেন। তার শরীরে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। পরে দুপুর ২ টার দিকে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ৫টা পর্যন্ত চিকিৎসা নেন। পরে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পপুলিশ পাহারায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে রাত ৯ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জিয়াউল হক জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ছেলে জাকিউর রাফিদ নাফি বলেন, আমার বোন বাবার মৃত্যুতে এই মুহূর্তে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছে, এর বাইরে আর কিছু বলতে পারছি না।
এ নিয়ে জেলা কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. শামীম রেজা বলেন,নিহতের রক্তচাপ হঠাৎ কমে গিয়েছিল। পরে তাকে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, কারাগারে অসুস্থ জিয়াউল হকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত শেষে সকল আইনী প্রক্রিয়ার মরদেহ ময়মনসিংহ কারাগার থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।