দেশীয় ফুটবলাদের সার্ক কোটা বাতিলের দাবি

আমদানি-তত্ত্ব জেঁকে বসেছে দেশের ফুটবলে। জাতীয় দলে এখন প্রবাসী খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি। হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদদের উড়িয়ে এনে জাতীয় দলের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টায় আছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাফুফে প্রধান তাবিথ আউয়াল দুনিয়াজুড়ে স্কাউট নিয়োগ দিয়ে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে বের করার কথা জানিয়েছেন। শরীরে বাংলাদেশি রক্তের উপস্থিতি মিললেই তাকে বাফুফের রাডারে নিয়ে আসার কথা বলেছেন তিনি। 

কেবল জাতীয় দল নয়, বাফুফে ঘরোয়া ফুটবলেও ‘আমদানি-তত্ত্ব’ নিয়ে এসেছে তাবিথ প্রশাসন। ক্লাবগুলোর আগে থেকেই বিদেশি নির্ভরতা ছিল। বিশেষ করে আক্রমণভাগে ক্লাবগুলোর প্রথম পছন্দ ভিনদেশিরা। তাদের কারণে আক্রমণভাগে খেলার সুযোগ মিলে না, তাতে গড়ে ওঠে না গোলের অভ্যাসÑএমন অভিযোগ স্থানীয়দের অনেক দিনের। এ সমস্যা উত্তরণের বিকল্প পথ না খুঁজে উল্টো মৌসুমের শুরুতে এক কালা-কানুন চাপিয়ে দেয় বাফুফের পেশাদার লিগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। যেখানে কেবল দেখা হয়েছে ক্লাবের স্বার্থ। 

এই মৌসুমে বাফুফে সর্বোচ্চ পাঁচজন সার্কভুক্ত খেলোয়াড়কে স্থানীয় হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ করে দিয়েছে বাফুফে। সে সুবিধা নিয়ে দুই প্রস্থের দলবদলে বেশ কিছু ক্লাব স্থানীয় ফুটবলারদের সংখ্যা কমিয়ে সার্ক কোটায় ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করে।

তাতে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের খেলার সুযোগ কমেছে। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তুলে নেওয়ার দাবিতে গতকাল বুধবার বাফুফে ভবনে উপস্থিত হন একঝাঁক ফুটবলার। ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ব্যানারে তারা ছয়টি দাবি সম্মিলিত একটি চিঠি বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। যেখানে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ থেকে সার্ক কোটাভিত্তিক খেলোয়াড় নীতিমালা সম্পূর্ণরূপে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে দেশীয় খেলোয়াড়দের অধিক খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় খোলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা, লিগে দল সংখ্যা বাড়ানো, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব ফেডারেশনকে নেওয়া এবং বিদেশি কোটা কমানোর দাবি জানায় ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। 

আবাহনী ও জাতীয় দলের উইঙ্গার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাফুফে ভবনে এসে বলেন, ‘সার্কের পাঁচজন, সার্কের বাইরের দেশের তিনজন, বয়সভিত্তিক একজন ফুটবলার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একটি দলে তিনজন বিদেশি আর পাঁচজন যদি সার্ক কোটার খেলোয়াড় খেলানো হয়, তাহলে সেই দলে দুজনের বেশি (স্থানীয়) খেলোয়াড় একাদশে খেলার সুযোগ পাবে না। এ জন্য আমরা সার্ক ফুটবলার বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’

সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কোন্নয়ন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে সার্ক কোটা প্রচলনের পরামর্শটা ছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপালসহ বেশ কিছু দিন এটা চালু করেছে। তবে এই নিয়ম চালু করার পর বাংলাদেশিদের খুব বেশি সার্কের অন্য দেশে খেলার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। সম্প্রতি এ কোটায় ভুটানের পারো এফসিতে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের সেন্টারব্যাক তারিক কাজী। এ নিয়মে দেশীয় ফুটবলারদের খেলার সুযোগ কমে যাওয়ার দাবি করে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া বলেন, ‘আমাদের দেশের মধ্যে শুধু তারিক কাজী ভুটান লিগে নাম লিখিয়েছে। অন্য কোনো দেশে এখনো আমাদের দেশের ফুটবলাররা আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। অন্য দেশের ফুটবলাররা ঠিকই আমাদের দেশে খেলছে। তাই আমরা এ ব্যাপারে ফেডারেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

মধ্যবর্তী দলবদলে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ১০ দলের মধ্যে বসুন্ধরা কিংস, মোহামেডান, আবাহনী, ফকিরেরপুল ও আরামবাগ কোনো সার্কভুক্ত খেলোয়াড় নিবন্ধন করেনি। বাকি পাঁচ দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ জন পাকিস্তানিকে নিয়েছে ব্রাদার্স। এ ছাড়া তিনজন করে সার্ক কোটার ফুটবলার নিয়েছে ফর্টিস এফসি, পুলিশ এফসি এবং পিডব্লিউডি। রহমতগঞ্জ নেপাল থেকে একজন খেলোয়াড় নিয়েছে। অর্থাৎ পাঁচটি ক্লাবে পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের ১৫ ফুটবলার খেলছেন। অন্যদিকে ১০ দলে বিদেশি কোটায় খেলছেন মোট ৩৮ জন। এ  ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ পাঁচজন বিদেশি চুক্তি বদ্ধ করেছে ব্রাদার্স। 

বাফুফের নিয়মানুযায়ী প্রতিটি দলকে বাধ্যতামূলক পাঁচজন ফুটবলার নিবন্ধন করতে হবে, যাদের বয়স ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে এবং এখান থেকে একাদশে কমপক্ষে একজন খেলোয়াড় খেলাতে হবে। বিদেশি, সার্ক কোটার সঙ্গে বয়সভিত্তিক কোটা যুক্ত হওয়ায় দেশীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ আসলেই কমেছে। সব মিলিয়ে নিবন্ধনের হিসেবে এখনো এগিয়ে থাকলেও দেশীয়দের বেশিরভাগের মৌসুম কেটে যাচ্ছে বেঞ্চ গরম করে।