মা-বাবা ছোট দুই ভাই-বোনকে বেশি আদর ও ভালোবাসেন- এমন ধারনা থেকে এক প্রতারক কবিরাজ চক্রের শরণাপন্ন হয়েছে শেরপুর জেলার মোছা. লুবাবা (১৩) নামের এক শিশু। এ ঘটনায় তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা প্রতারণা করে নেয় চক্রটি। প্রতারণার বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ প্রতারণার মূলহোতা মনির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬) দুপুরের দিকে জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিটিআই) কার্যালয়ে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত (পিপিএম) এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিশু লুবাবা শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রতারক মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি মেড ইন জামালপুর নামের একটি পেইজের কন্ট্যান্ট ক্রিয়েটর।
পিবিআই জানায়, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের মেয়ে লুবানা (১২) স্থানীয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার মনে ধারণা জন্মায় যে, মা-বাবা তাকে কম ভালোবাসেন। এই ভাবনা থেকে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসক্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সন্ধান পায় সে। মা-বাবার ভালোবাসা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ভণ্ড কবিরাজ ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লুবানার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
কবিরাজির ফি এবং বিভিন্ন সামগ্রী কেনার কথা বলে গত ১ মার্চ বিকাশের মাধ্যমে লুবানার কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এতেও কাজ না হওয়ায় ১০ মার্চ তারা লুবানার কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নেয়।
টাকা ও স্বর্ণালংকার নেয়ার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সর্বশেষ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে লুবানার কাছে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে ভণ্ড কবিরাজ। লুবানা বিকাশের দোকানে টাকা পাঠাতে গেলে, অল্প বয়সী মেয়ের এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লুবানার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপরই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় লুবানার বাবা সাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জামালপুর পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, মামলার বিষয়টি জানার পরপরই রহস্য উদঘাটনের কাজ শুরু করি। এই ইউনিটের চৌকস সদস্যদের কয়েকটি টিমে ভাগ করে তাদের আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তদারকি করি। অভিযান টিমগুলোর কঠোর পরিশ্রমে মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয় এবং মামলার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।
এ সময় প্রতারণা করে নেওয়া প্রায় ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও এ সময়ের সবচেয়ে আধুনিক মোবাইল ফোনসহ পাঁচটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। চটকধারী ধারি বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও প্রকার আর্থিক লেনদেন না করার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ করেছেন তিনি।