পার্বতীপুরে তেল নিতে পাম্পে দীর্ঘলাইন

পার্বতীপুরের বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানী তেল সংগ্রহে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার দুই শতাধিক পাম্পে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১৫ লাখ লিটার, পেট্রোল ৩ লাখ লিটার ও অকটেন ২ লাখ লিটার। বর্তমানে ডিপো থেকে দৈনিক গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ডিজেল ৭/৮ লাখ লিটার, পেট্রোল প্রায় ২ লাখ লিটার এবং অকটেন ১ লাখ লিটার। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পেট্রোল কিংবা অকটেন জ্বালানী তেল সংগ্রহের জন্য একদিন আগে থেকেই অনেক বাইকাররা পাম্পে মোটরসাইকেল রেখে লাইন ধরছেন। কেউ বাঁশের সঙ্গে ত্রিপল বা কাপড় বেঁধে রেখেছেন, কেউ কেউ কাপড়ে ঢেকে রাখছেন মোটরসাইকেলটি। এমনকি বাইকাররা পাম্পে পাম্পে রাত্রি যাপন করছেন, সেখানেই করছেন খাওয়া-দাওয়া। মোটরসাইকেলের জন্য নিয়োগ করেছেন পাহারাদার। মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, এত কষ্টের পরও তাঁরা চাহিদা মতো পেট্রোল বা অকটেন পাচ্ছেন না। ৫/৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বলা হচ্ছে পেট্রোল শেষ।  

পেশায় শিক্ষক আজগর মিয়া (৫০)। বাড়ি পার্বতীপুর শহরের বাস টার্মিনাল হুগলীপাড়া মহল্লায়। তাঁর বাড়ী থেকে তেল পাম্প থেকে দুরত্ব প্রায় হাফ কিলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাম্পে গিয়ে তার মোটরসাইকেলটি রেখে এসেছেন। যদি আগামীকাল শুক্রবার তেলের আশায়। রমজান আলী (৬০) বৃহস্পতিবার বিকেলে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখছিলেন। তিনি বলেন, জীবনেও দেখিনি তেল নিতে এত ভিড়। হলদীবাড়ী রেলগেট থেকে প্রায় ১ কিলো তেল পাম্প এবং বার্মা তেল পাম্প থেকে পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস ছেড়ে চান্দাপাড়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলো মটরসাইকেল দীর্ঘলাইন। 

মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, এত কষ্টের পরও তাঁরা চাহিদামতো পেট্রোল পাচ্ছেন না। ৫/৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বলা হচ্ছে পেট্রোল শেষ। কোনো কোনো তেল পাম্পে শত শত বাইকার অপেক্ষমান। তেল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বার্মা ফিলিং স্টেশনে অপোয় থাকা মোটরসাইকেলচালক আবু নাসের মো. জুলফিকার (৫০) বলেন, আজ তেলের জন্য বাইকটি রিয়েল তেল পাম্পে রেখে এসেছি। আগামীকাল শুক্রবার (১৭এপ্রিল) তেল দেবে শুনেছি। এর জন্য এক পাহারাদারকে ১ শ’ টাকা দিয়েছি। অনেকের মোটরসাইকেলে পেট্রোল আছে। তবু সংকটের আশঙ্কায় তাঁরা ট্যাংকি ভরে নিচ্ছেন। 

উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া গ্রামের প্রাথমিকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, সকালে পেট্রোল নিতে গেলে স্কুলে যাওয়া হয় না। তাই দুপুরে ছুটি নিয়ে পাম্পে পেট্রোল নিতে এসেছেন। প্রচন্ড রোদে অপেক্ষা করছেন। তবে তেল পাবেন কি না-তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করতে ১/৩ দিন লাগত, এখন একই পরিমাণ তেল এক দিনেই শেষ হচ্ছে বলে জানান রিয়েল ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক। তেল নিতে আসা একাধিক বাইকার অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন এনজিও নারী কর্মীরা অনেকে চালক বদলে তেল নিচ্ছেন। ফলে একই ক্রেতা বারবার তেল নিচ্ছেন।