শেষ হয়ে আসছে ইউরোপের জ্বালানীর মজুত

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলে ইউরোপে আর মাত্র ছয় সপ্তাহের মতো জেট ফুয়েল মজুত আছে, এমন সতর্কতা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই ফ্লাইট বাতিল শুরু হতে পারে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে বিরোল বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখে। এর ফলে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি সতর্ক করেন, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দরিদ্র দেশগুলো। তবে হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে না দিলে শেষ পর্যন্ত সব দেশই ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। বিরোল বলেন, এটি দ্রুত চালু না হলে ইউরোপে জেট ফুয়েলের ঘাটতি তীব্র হবে এবং বিমান চলাচল বন্ধের আশংকাও রয়েছে।

যদিও কেএলএম, ইজি জেট ও ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা এখনো বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়েনি, তবে বাড়তি খরচের চাপ ইতোমধ্যে পড়েছে। কেএলএম আগামী মাসে আমস্টারডাম থেকে ১৬০টি ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, যার পেছনে জ্বালানির বাড়তি মূল্যই প্রধান কারণ।

ইতোমধ্যে যাত্রীদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, বাড়ছে ভাড়া ও অতিরিক্ত ফি। বিরোল আরও বলেন, মে মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালী চালু না হলে অনেক দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এমনকি মন্দার মুখে পড়তে পারে। এছাড়া তিনি ইরানের জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,  এটি স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও একই নজির তৈরি হতে পারে।