ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। গতকাল বৃহস্পতিবারের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের ভূয়সী প্রশংসা করেন পেজেশকিয়ান।
এ সময় যুদ্ধবিরতির কূটনীতিতে কার্যকর অবদান রাখায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফেরও প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। এছাড়া গত শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তার জন্য পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সামা টিভি।
তেহরানে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের বহু যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার মূল কারণ ইসরায়েল। ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায় দেশটি। পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা চায়নি, বরং প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে চায় ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সম্মানিত জনগণের কাছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছেন পেজেশকিয়ান।
অন্যদিকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৈঠকে ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ইরানি কমান্ডার এবং নাগরিকদের শাহাদাতবরণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রকাশ করেছেন গভীর শোক।
যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন মুনির। তার বিশ্বাস, খুব শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া গত শনিবারের আলোচনার ওপর একটি প্রতিবেদনও পেশ করেন মুনির। তিনি আশাবাদী, অদূরভবিষ্যতে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে এবং অবসান ঘটবে যুদ্ধের।