গাজীপুরের শ্রীপুরে তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতের চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চলতি বোরো ধানের ফসল আর নানা জাতের আবাদ করা সবজি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে বয়ে যাওয়া এ কালবৈশাখী ঝড়ে এমন ব্যাপক ক্ষতি হয় কৃষকের। এ সময় ঝড়ে অন্তত তিনশতাধিক কাঁচা আধাপাড়া টিনসেট ঘড়বাড়িও ভেঙে পড়ে। গাছপালা উপড়ে পড়ে ঘরের ওপরে। বহু গাছপালাও ভেঙে গেছে এ সব এলাকায়। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে লস্বা সময়।
খবর পেয়ে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ঝড়ে ব্যাপক ক্ষগ্রিস্ত হওয়া ৫টি এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিকার বহু কৃষক পরিবার ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে আছি। বাড়িঘর নষ্ট হওয়া বাসিন্দারেও পাশে থেকে সহায়তা করা হবে।
এদিকে কৃষি অফিসের দাবি, অন্তত ৩০০ হেক্টর বোরো আবাদ করা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রায় দুই হাজার মেট্রিকটন বোরো ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারে না। আসছে সময় গো খাদ্যেরও সংকট তৈরি হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপতা, বেলদিয়া, বয়রা, নানন্দিয়াসাঙ্গুন, বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া, বরকুল, পাঠানটেক, কাঁঠালি, গোলাঘাট ও গাজীপুর ইউনিয়নে নগরহাওলা, শৈলাটসহ বেশ কিছু গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ের একটু পরেই শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। ফলে ফসল গাছপালা নষ্ট হয়েছে। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বহু গাছপালা উপড়ে বাড়ি ঘরের ওপর পড়ে আছে। এতে বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে পড়ে ঝড়ের কবলে থাকা এলাকাগুলো। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কাওরাইদ ইউনিয়নের গ্রামগুলো।
কাঁঠালি গ্রামের বাসিন্দা তালুকদার আবুল হুসাইন জানান, ঝড়ে আমাদের বাড়ির অন্তত চারটি ঘর নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেতের ফসল চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান সবজি চরম আকারে বিনষ্ট হয়েছে।
নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, তার চার বিঘা বোরো ধানের ক্ষেত মাটিতে মিশে গেছে। ধানগাছগুলো শিলার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে আছে। ফলে এগুলো থেকে গো খাদ্য (খড়) পাওয়া যাবে না। এদিকে আসছে সময় গরুর খাদ্য সংকট তৈরি হলো চরম আকারে।
কাওরাইদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্রসাশক/কৃষি সম্প্রাসরণ কর্মকর্তা) মো. মাহাবুবুল আলম জানান কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭, ৮, ও ৯ নম্বর ওর্য়াডে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৫০টি ঘরের চালা উড়ে গেছে। তিনশতাধিক ঘরের চালা শিলার আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে। একজন আহত হলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে। ইউপি সদস্যরা তালিকা প্রস্তুত করছেন। তাদের সহায়তা করা হবে। খবর পেয়ে এমপি স্যার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরির্শন করেন। কৃষকের এতো ক্ষতি দেখে তিনি নিজেই চমকে যান।
শ্রীপুর উপজেলা জ্যেষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কালবৈশাখী আর শিলাবৃষ্টিতে ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বোবো ধান আর সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। ধারনা করছি অন্তত ৩০০ হেক্টর বোরো জমি নষ্ট হয়েছে। ফলে প্রায় দুই হাজার মে. ট্রন ধান এবার কৃষক গোলায় তুলতে পারবেন না। শিলার আঘাতে ধানগাছগুলো একেবারে ছিঁড়ে মাটিতে মিশে গেছে।