মাঠে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের প্রতিপক্ষ শুধু বাংলাদেশ দলই ছিল না, ছিল প্রকৃতিও। পরিবেশ, উইকেট দুইই ছিল প্রতিকূলে। দলের শীর্ষ ক্রিকেটারদের ছাড়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে বাংলাদেশে আসা নিউজিল্যান্ডের এই দলটার কাছেই ২৬ রানে হেরে গেছে মেহেদি হাসান মিরাজের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ দল। টসে জিতে আগে ব্যাটিং করা নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে করে ২৪৭ রান। জবাবে ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। ৫৮ রান ও ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা ডিন ফক্সক্রফট।
প্রেসবক্সের তাপানূকুল পরিবেশে নিউজিল্যান্ড দলের মিডিয়া ম্যানেজার ক্যালাম বলছিলেন, গ্রীষ্মের চতুর্থ দিনেই যা গরম পড়েছে তাতে ভাগ্য ভালো যে, আমাকে বেশি দিন এখানে থাকতে হচ্ছে না! মাঠে ক্রিকেটারদেরও হাঁসফাঁস অবস্থা, বাড়তি একটা পানি পানের বিরতি যোগ হয়েছে খেলায়। দুই ওভারের মাঝের বিরতিও ছিল লম্বা। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশ দেরিতেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। সরকারের জ¦ালানি সাশ্রয় নীতির কারণে খেলা শুরুর সময় এগিয়ে আনলেও সম্পূর্ণ দিনের আলোয় শেষ করা যায়নি গোটা ম্যাচ। অবশ্য জ¦ালানি সাশ্রয় হতে পারত একভাবে, বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপে যদি ধস নামত। তাহলে কিছু বিদ্যুৎ বাঁচত, কারণ দিন শেষে ফল তো একই! ৪৯তম ওভারে ম্যাচটা নিয়েও অতিসাবধানী ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে ২৪৮ রান তাড়া করে জিততে পারল না বাংলাদেশ, এই সময়ের ক্রিকেটে যেটা নিদারুণ ব্যর্থতা।
ক্যাচ পড়েছে, মিসফিল্ডিং হয়েছে; তারপরও নিউজিল্যান্ডকে ২৪৭ রানে আটকে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট; নাহিদ রানা ও মেহেদি হাসান মিরাজ নিয়েছেন একটি করে উইকেট। হেনরি নিকোলস করেছেন ৬৮ রান, আগেরবার বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হওয়া ফক্সক্রফট এবারে করেছেন ৫৮ বলে ৫৯ রান।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই নাথান স্মিথ পরপর দুই বলে আউট করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। দুজনেই বোল্ড। এই দৃশ্যই এমন ভীতি ধরলো পরের ব্যাটসম্যানদের মনে যে, তারা উইকেটে মাটি কামড়ে থাকলেও রান করতে ভুলে গেলেন। লিটন দাস ও সাইফ হাসানের জুটিটা ১১৬ বলে ৯৩ রানের। ৮ বাউন্ডারিতে সাইফ ৫৭ রান করেছেন ৭৬ বলে। ৫০ পূরণ করেছেন ৫৯ বলে, পরের ৭ রান করতে নিয়েছেন আরও ১৬ বল। লিটনের ৬৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে মাত্র ৩টি মাত্র বাউন্ডারি। পরে পুষিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান বল নষ্ট করেছেন, পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের জন্য চাপ বাড়িয়েছেন। পাকিস্তান সিরিজে সাইফ ও লিটন দুজনেরই ফর্ম এবং দলভুক্তি নিয়ে ছিল সমালোচনা। দুজনেই ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে বিসর্জন দিয়েছেন দলগত অর্জনের সম্ভাবনাকে। স্বার্থপর ব্যাটিংয়ে নিশ্চিত করতে চেয়েছেন দলে নিজেদের অবস্থান যার প্রমাণ এই ব্যাটিং। ২৯১ বলের ইনিংসে টানা ৯১ বলে কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ২৪তম ওভারের চতুর্থ বলে ফক্সক্রফটের বলে বাউন্ডারি মেরেছিলেন তাওহিদ হৃদয়, পরের বাউন্ডারিটা ৩৯তম ওভারের পঞ্চম বলে। তার ৬০ বলে ৫৫ রানের ইনিংসটায় মনে হতে পারে জয়ের জন্য খুব লড়েছেন হৃদয়, আদতে তিনিও সাবধানী ব্যাটিংয়ে ব্যবধান কমিয়েছেন। কখনোই মনে হয়নি লক্ষ্যটা ছুঁতে পারবে বাংলাদেশ। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেছেন আফিফ হোসেন। ম্যাচের অমন পরিস্থিতিতে, তার ৪৯ বলে ২৭ রানের ইনিংস যেটাতে কোনো বাউন্ডারি নেই; এই ইনিংসটাই রান আর বলের ব্যবধান বাড়িয়ে রান-রেটের চাপ তৈরি করে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশকে।