বসুন্ধরা-ফর্টিসের হোঁচট, আবাহনী-মোহামেডানের জয়

শুক্রবার চার ভেন্যুতে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের হয়েছে চার ম্যাচ। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা তিন দলই নেমেছিল মাঠে। বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি পয়েন্ট খোয়ালেও টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী। আর কোচ বদলে টানা সাত ম্যাচ পর জয়ের স্বাদ পেয়েছে মোহামেডান।

মুন্সীগঞ্জে বসুন্ধরাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে রহমতগঞ্জ। ফর্টিস এফসি সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েও জয় পায়নি। কিংস অ্যারেনায় আরামবাগের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা। মানিকগঞ্জে স্বাগতিক পুলিশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে মারুফুল হকের আবাহনী। আর কুমিল্লায় ফকিরেরপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান।

১৩তম রাউন্ডের চার খেলা শেষে পয়েন্ট টেবিলে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বসুন্ধরা। তবে আবাহনী ও ফর্টিসের সঙ্গে ব্যবধান কমেছে কালকের ড্রয়ে। আবাহনী ও ফর্টিসের সংগ্রহ ২৫ পয়েন্ট, গোলগড়ে এগিয়ে দুইয়ে উঠে এসেছে ধানম-ি জায়ান্টরা। আর বহুল প্রতীক্ষিত জয়ে মোহামেডান ১৪ পয়েন্টে সাত থেকে উঠে এসেছে ছয়ে।

মুন্সীগঞ্জে দুই গোল, দুই লালকার্ডের ম্যাচটা শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। প্রথমার্ধেই হয়েছে দুই গোল। বেতন বকেয়া হওয়ায় বসুন্ধরাকে কাল নামতে হয়েছে তিন বিদেশিকে ছাড়া। দলের সঙ্গে মাঠেই যাননি ডরিয়েলতন গোমেজ, ইমান্যুয়েল সানডে ও ইমান্যুয়েল টনি। বেতন নিয়ে অসন্তোষ আছে স্থানীয়দেরও। তবে বেতনের আশ্বাসে তারা মাঠে থেকেছেন, তবে দলকে জেতাতে পারেননি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের সুযোগ সন্ধানী গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আর্নেস্ট বোয়েটাং রহমতগঞ্জকে সমতায় ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে দুদলের দুই ডিফেন্ডার লালকার্ড দেখেন। প্রথমে দেখেন বসুন্ধরার বিশ্বনাথ ঘোষ। এরপর রহমতগঞ্জের নেপালি ডিফেন্ডার অভিষেক লিম্বু। এছাড়া দুদলের দুই সেরা ফরোয়ার্ড রাকিব করেন শিশুতোষ মিস। তাই ম্যাচটা শেষ হয় সমতায়।

কিংস অ্যারেনায় অনেক চেষ্টা করেও আরামবাগের গোল দরজা খুঁজে পায়নি ফর্টিস এফসি। অথচ এই ম্যাচে জিতলে তারা ধরে ফেলত বসুন্ধরাকে। সুবর্ণ সুযোগ মিসের দিনটি আরও তিক্তটা ভরে ওঠে দলের মূল স্ট্রাইকার পা ওমর বাবুকে সরাসরি লালকার্ড দেখতে হওয়ায়।

আগের ম্যাচে চিরশত্রু মোহামেডানকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানিকগঞ্জে খেলতে নেমেছিল আবাহনী। প্রথমপর্বের মতো এ ম্যাচেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আকাশি-হলুদরা। ৩৩ মিনিটে আবাহনীকে লিড এনে দেন এমেকা ওগবাহ। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাথিউস বাবলু গোল করে পুলিশকে ম্যাচে ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আবাহনীর দুই ফরোয়ার্ড গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। ৫৮ মিনিটে আল আমীন ২-১ করেন। আর শেখ মোরসালিন গোল করেন ৭৮ মিনিটে। আবাহনীর জয়ের আনন্দ কিছুটা ভাটা পড়ে ৮৫ মিনিটে মোরসালিনকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলে। এর আগে ৭০ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল পুলিশের শরীফ নিরবকে।

কুমিল্লায় মোহামেডানের এই জয়টা অনেক স্বস্তির। তারা টানা সাত ম্যাচ জয়ের মুখ দেখেনি লিগে। আবাহনীর কাছে হারার পর কোচ আলফাজ আহমেদকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় আবদুল কাইয়ুম সেন্টুকে। দায়িত্ব পেয়েই মোহামেডানকে জেতান সেন্টু। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর জয় আহমেদ, জুয়েল মিয়া ও রাফায়েল টুডু গোল করে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত করেন।