রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে বিক্ষুব্ধ জনতার অবস্থান

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদল বিক্ষুব্ধ জনতা গতকাল শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদপুরে রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। উত্তেজনার মধ্যে রাশেদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দীকে পুলিশ হেফাজতে নেয় ডিএমপির মোহাম্মাদপুর থানা-পুলিশ।

রাত সাড়ে ৮টায় পিএস জনি নন্দীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিক্ষুব্ধ জনতা মামলা করবে, সেই মামলায় তাকে আটক দেখানো হবে।  

এর আগে স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করার পর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।

এডিসি জুয়েল রানা জানান, উত্তেজনার একপর্যায়ে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দী উসকানিমূলক আচরণ করলে তাকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়। জনি নন্দী গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় ছিল এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশি নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশের এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে রাশেদ প্রধানের অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কড়া মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে তারেক রহমানকে ‘কুলাঙ্গার’ এবং ‘লন্ডন থেকে আসা মুফতি’ বলে সম্বোধন করে। তিনি দাবি করেছেন যে, তারেক রহমান নিজের দলের ইতিহাস ও নেতাকর্মীদের চেনেন না এবং তার দ্বারা দেশ পরিচালনা অসম্ভব। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন অশোভনীয় কটূক্তি করায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে এই মন্তব্যের জন্য অনেকে রাশেদ প্রধানকে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানাচ্ছেন।

পঞ্চগড়ে রাশেদ প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা : পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গতকাল তার নিজ জেলা পঞ্চগড়ে জাগপার জেলা কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন জাগপা নেতারা। হামলায় দলীয় কার্যালয়ের টিনের সীমানাবেড়া সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। এ ছাড়া ভেতরের চেয়ার-টেবিলও ভাঙচুর করা হয়।

এর আগে বিকেল ৫টার দিকে জেলা শহরের বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী। সংক্ষিপ্ত পথসভায় রাশেদ প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।

জামায়াতের নিন্দা : জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র এবং ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে একদল সন্ত্রাসীর ‘মব সৃষ্টি’ ও হামলা এবং পঞ্চগড়ে জাগপার জেলা কার্যালয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাবে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার জেলা পর্যায়ের অফিসে হামলা ও বাসার সামনে একদল সন্ত্রাসীর ‘মব সৃষ্টি’ ও হামলার ঘটনায় বিএনপি সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি রাশেদ প্রধানের দলীয় কার্যালয় ও বাসায় হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তদন্তপূর্বক ঘটনা দুটির সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি এবং রাশেদ প্রধানের বাসা, রাজনৈতিক কার্যালয় ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দাবি করছি। আমি দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।