শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় গেল ১৭ বছর দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি এ জেলায়। আগামী ২০ এপ্রিল বগুড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সেদিন বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বিগত সময়ে বগুড়ার উন্নয়নের আশ্বাস আর ঘোষণা দিয়ে গত ১৭ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকে এ জেলার মানুষ আশার আলো দেখছে। এবার উন্নয়ন বঞ্চনা নয়, দীর্ঘ সময় উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসী এবার উন্নয়নের দাবি তুলছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত বগুড়া জেলা। এ জেলায় সাত সংসদীয় আসন রয়েছে। কিন্তু বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। জেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ, উন্নয়ন কাজ আনতে ব্যর্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদের এমপিরা। যে বরাদ্দ এনেছেন নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। উন্নয়নের নামে বারংবার জেলায় মন্ত্রী-এমপিরা পরিদর্শন করলেও বাস্তবায়ন হয়নি একটিও। উন্নয়নের নামে শুধু লোভই দেখানো হয়েছে, বাস্তবায়ন করা হয়নি কিছুই। শুধুমাত্র বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি বলে প্রতিহিংসায় সব উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এজেলাকে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছেন এ জেলার মানুষ।
স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বগুড়ায় হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানাসহ যে উন্নয়ন হয়েছিল, সেটি উত্তরের মানুষের জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও বিমানবন্দর স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিলেও সেগুলো থেমে যায় শেখ হাসিনার সরকারের কারণে।
বগুড়াবাসীর দাবি, জেলার উন্নয়নে বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দর চালু করা, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগর স্থাপন, অতিদ্রুত বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, সবজি হিমাগার নির্মাণ, কমপক্ষে চারটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ করে ও চরগুলো আধুনিকায়ন করে ট্যুরিস্ট স্পট নির্মাণ, যমুনার পাশে সার কারখানা স্থাপন, জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আরও আধুনিকায়ন, করতোয়া নদী সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন ফ্লাইওভার নির্মাণ, নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফিরিয়ে আনা, খেলাধুলার জন্য আধুনিক স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, শিশুকিশোরদের জন্য বিনোদন স্পট, সাংস্কৃতিক কাজের জন্য একাধিক মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে যমুনা নদী বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ, সুদের কারবার বন্ধ করা, মাদক, জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া মুখী করে গড়ে তোলা, বঞ্চিত হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট গড়া, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহজশর্তে সরকারি ঋণ দেয়াসহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন তারা।
বগুড়া জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়াশোনার জন্য সারাদেশের মধ্যে অনেক এগিয়ে। যা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রমাণিত হয়। সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেও শুধু বগুড়ায় স্থাপিত হয়নি।
এবিষয়ে জেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি ও প্রাবন্ধিক বজলুল করিম বাহার বলেন, বগুড়াকে পেছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জেলা বগুড়া। এ জেলা অনেক আগে শিক্ষার নগরীতে পরিণত হয়েছে। এরপরও এখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়নি। ২০০৫ সালে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের করার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। কিন্তু পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, কোন এক অজানা আঁধারে যেন বন্দি ছিলাম আমরা। তবে আশার কথা হলো, বগুড়ায় এবার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হবে। যা আমাদের অনেক কাঙ্ক্ষিত একটি অভাব,তা পূরণ হবে। সেই সঙ্গে জেলায় আরও চারটি (২টি বালক, ২টি বালিকা) উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বগুড়ার অবদান রয়েছে অনেক। জাতীয় ক্রিকেট দলে বগুড়ার অনেক খেলোয়াড় রয়েছে যারা বগুড়া সন্তান। এরমধ্যে মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম সুহাস, তৌহিদ হৃদয়, তানজিদ তামিম অন্যতম। যারা নিয়মিত খেলছেন। কিন্তু বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আন্তর্জাতিক মানের মাঠের মর্যাদা হারিয়েছে। আইসিসির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যা শুধু প্রতিহিংসার কারণে ঘটেছে।
বগুড়া স্পোর্টস রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা মোঘল বলেন, ক্রীড়ার উন্নয়নে বিগত সময়গুলোতে শুধু আশার বাণী শোনানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই। বরং এশিয়ার মধ্যে অন্যতম ক্রিকেট স্টেডিয়াম শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। সেই স্টেডিয়ামকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। যে ক্রিকেট খেলার মাধ্যমে সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে চিনে, সেই খেলাধুলায় রাজনীতি নিয়ে এসে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। অতিদ্রুত শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আবার আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া হোক। পাশাপাশি স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নয়নে জন্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হোক।
তিনি বলেন, বগুড়ায় শুধু ক্রিকেটার নয়, অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। অথচ বগুড়ায় কোন ফুটবল স্টেডিয়াম নেই। যে মাঠগুলোতে খেলার অনুশীলন চলে, সেগুলোও মানসম্মত নয়। তাই বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করা খুব জরুরি। এছাড়া বিকেএসপির একটি শাখা বগুড়ায় খুলতে পারলে উত্তরাঞ্চলের ক্রীড়ায় বিশেষ অবদান রাখতে পারবে।
বগুড়ার সাবেক ক্রিকেটার তানভীর আলম রিমন বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে শুধু ক্রীড়া নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে বগুড়াকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই বগুড়ার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই রাখবেন বলে মনে করেন তিনি।
পরিবেশের উন্নয়নে বগুড়া শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া, ইছামতী, বাঙালি ও জেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা যমুনার নদীর নাব্যতা রক্ষা। বিশেষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান এই অঞ্চলের মানুষের। করতোয়া ও ইছামতী নদী খননের কথা বিগত সময়গুলোতে শোনানো হলেও আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবার একনেকে করতোয়া নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মো. সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, করতোয়া নদী আমাদের শহরের প্রাণ। এই নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দখল-দুষণ মুক্ত করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে করতোয়ার রূপ। পুরো শহরের ড্রেনের পানি এই নদী পড়ে দুষণ হচ্ছে। এই পানিকে প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা যাতে নদী দূষণ না হয়। সেইসঙ্গে শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। কারণ হালকা বৃষ্টি হলেই শহরে হাটুজল দেখা দেয়। যা স্বাভাবিক হতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারিভাবে কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে হবে। শহরের পরিবেশ রক্ষায় শব্দ দুষণে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। শহরের রেল লাইনটি ওভারপাস করা বা বাইপাস করা। যাতে শহরের যানজট নিরসনে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরের রাস্তাগুলোতে ফুটপাত দখল মুক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কৃতিতে অন্যান্য জেলার চেয়ে বগুড়া অনেক এগিয়ে। বগুড়ায় নাটক, আবৃত্তি, নাচ, গান, কবিতা, প্রবন্ধ নিয়ে শতাধিক সংগঠন কাজ করছে। কিন্তু বগুড়ার সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য কোন মুক্ত মঞ্চ নেই। যেখানে অবাধে সংস্কৃতির চর্চা করা সম্ভব।
নাটক নিয়ে প্রায় ৪৫ বছর ধরে কাজ করছে অন্যতম সংগঠন বগুড়া থিয়েটার।
এই সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার জানান, বগুড়ায় শতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। অথচ বগুড়ায় এই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য কোনো মুক্ত মঞ্চ নেই। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি, তিনি এই বগুড়ার সন্তান। তিনি অবশ্যই শহরে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য কয়েকটি মুক্ত মঞ্চের ব্যবস্থা করে দেবেন।
বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক বলেন, বগুড়ায় অনেক কবি লেখক রয়েছেন। যারা তাদের লেখনি দিয়ে সারদেশে সুনাম কুড়িয়েছেন। অথচ লেখকদের জন্য নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। যেখানে লেখকরা তাদের গবেষণা করবেন সাহিত্যে, প্রবন্ধে, কবিতায়। তাই বগুড়া একটি সাহিত্য পল্লী গড়ে তোলা অনেক প্রয়োজন।
বগুড়ার তৈরি পাটজাত পণ্য, হাতে তৈরি সুতি টুপি, রাইস ব্যান ওয়েল, হালকা প্রকৌশল কৃষিজাত পণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য উৎপাদন হচ্ছে নিয়মিত। এসব পণ্যের বাজার রয়েছে দেশের বাহিরে। শুধু এশিয়া নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ও ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার কারণে বিদেশে রপ্তানি করতে বেগ পেতে হয়। কারণ বগুড়ায় কোনো আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর নেই। যার ফলে বিদেশি ক্রেতারা বগুড়ায় আসতে পারে না। তাই ব্যবসায়ীরা দাবি অতিদ্রুত বিমানবন্দর চালু করার।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি সাইরুল ইসলাম বলেন, বগুড়ায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা নিয়মিত তাদের পণ্য রপ্তানি করছে। কিন্তু বগুড়ায় কোনা বিমানবন্দর না থাকায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানালেও তারা যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে ঢাকায় আসলেও সড়ক পথে বগুড়ায় আসতে চান না। কারণ তারা সময়কে বেশি মূল্য দেয়। তাই অতিদ্রুত বগুড়ায় যে বিমানবন্দর রয়েছে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ করা হোক। একই সঙ্গে মালবাহী কার্গো বিমান যেন উঠানামা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা অনেক জরুরি।
তিনি বলেন, পতিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রীরা বগুড়ায় এসে বিমানবন্দর চালুর কথা বারবার বলে গেছে। আর বিল ভাউচারের তাদের নজর বেশি ছিল। বগুড়ার উন্নয়নে কেউ নজর দেয়নি। কারণ এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান।
বগুড়ার মহাস্থানসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। এর মধ্যে আলু, ফুলকপি, মূলা, লাউ, সজনে ডাটা, বেগুন, করলা, পেঁপে, পাতাকপি, ঝিঙে, পটল, গাজর অন্যতম। যা সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে।
চলতি বছর বগুড়ার শিবগঞ্জের সাদুরিয়া এলাকার ব্যবসায়ী বদিউজ্জামান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ৫০ হাজার কেজির বেশি আলু পাঠিয়েছেন। বগুড়া থেকে প্যাকেট করে তা ট্রাকে করে চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। তারপর তা জাহাজে করে মধ্যেপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলে যায়। এবার তিনি পাকড়ি ও ডায়মন্ড জাতের আলু পাঠিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে।
ব্যবসায়ী বদিউজ্জামান বলেন, বগুড়ার আরও অনেক সবজি বিদেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু সঠিক যোগাযোগ মাধ্যম না থাকায় বেশি পাঠানো যায় না। বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপন হলে এখানে মালবাহী কার্গো বিমানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে মালবাহী কার্গো বিমানের করে আমরা সবজি বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। সেই সঙ্গে জেলায় আরও সবজি হিমাগার নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন ইসলাম তুহিন বলেন, বগুড়ায় সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। শহরটাকে একটা শৃঙ্খলার মাঝে নিয়ে আসা দরকার। শহরের দখলকৃত ফুটপাত, যানজট, মাদক বিক্রয়সহ সকল ধরনের অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে চিহ্নিত। এই সব বিষয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া অতিদ্রুত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু করতে হবে।
বগুড়া বিসিক এলাকার গুঞ্জন গ্রুপের পরিচালক অনিন্দিতা হক গুঞ্জন বলেন, আমাদের বগুড়ার দ্বিতীয় বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু করতে হবে। কারণ এখানে যতগুলো প্লট আছে তা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। বিগত সরকারের সময় বিষয়টি ফাইল বন্দি হয়ে শুধু পড়ে থেকেছে। তাই এবার সময় এসেছে অতি দ্রুত বগুড়ায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু করার।
এদিকে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে জোড়ালো ভুমিকা সংসদে রেখেছেন বগুড়া-৬ সদর আসনে সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়াকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার সব প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এসে সেসব কবর দিয়ে দেয়। বগুড়ার উন্নয়নের কথা বললেই তারা মুখভার করত। বগুড়ায় যে উন্নয়ন করা হয়েছে, তা বিএনপির সময়ে।
তিনি বলেন, এবার বগুড়ার মানুষ উন্নয়নের স্বাদ পেতে চায়। আগামী ২০ এপ্রিল বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিনই বগুড়ার উন্নয়নে পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণার মধ্যে দিয়ে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় সেদিন আরও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘ দিনের বগুড়াবাসীর উন্নয়ন বঞ্চনা এবার শেষ হবে।