বজ্রপাতে ৬ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু

বজ্রপাতে ৬ জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৃথক পৃথক বজ্রপাতে তারা মারা যান। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলায় পাঁচজন, রংপুরের মিঠাপুকুরে দুজন,  নেত্রকোনায় একজন, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একজন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে একজন, কিশোরগরঞ্জের করিমগঞ্জে একজন ও গফরগাঁওয়ে একজন। 

জানা গেছে সুনামগঞ্জে ৫ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া  রংপুরের মিঠাপুকুরে ২জন, ময়মনসিংহে ২জন এবং নেত্রকোনায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় জামালগঞ্জের পাগনার হাওর, ধর্মপাশা উপজেলায় টগার হাওর এবং তাহিরপুর উপজেলায় এ বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সুনামগঞ্জে নিহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)।

অন্যদিকে রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার (১৮এপ্রিল) সকালে উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বড় হযরতপুর এলাকার তালেব উদ্দিন (৬০) এবং মাছ ধরতে আসা মিলন মিয়া (৪০)। স্থানীয়রা জানান, সকালে বৃষ্টির আগে একটি পুকুরে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই দৃশ্য দেখতে পাড়ে ভিড় করেন ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী। পাশের আরেকটি পুকুরে পানা কাটছিলেন একজন। হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হলে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে আহতদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে নেত্রকোনার আটপাড়ায় ধলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু।শনিবার (১৮এপ্রিল) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্‌নূর রহমান। এর আগে সকালে উপজেলার সুখারি ইউনিয়নে ধলার হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় কৃষক আলতু মিয়ার। নিহত আলতু মিয়া সুখারি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ্‌নূর রহমান জানান, আমরা ইতিমধ্যেই সংবাদ পেয়েছি যে হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে একজন কৃষক নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজ-খবর নিয়েছি। নিহত কৃষকের দাফন-কাফনের যাবতীয় প্রক্রিয়ার জন্য তার পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।