বাজারে কোথাও সারের দাম বেশি নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে সিভিল ড্রেসে অবস্থান করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভিডিও ধারণ ও মুচলেকা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮এপ্রিল) দুপুরে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের গোমতী নদী ও জৈন্তার খাল পরিদর্শন শেষে হরিণধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ মোল্লা টিপু। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন।
সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। কৃষকের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ধান কেনার জন্য একটি নির্ধারিত মূল্য ঠিক করেছে, যা উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করেন, তাই তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রথম ধাপে দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি কৃষি অফিস থেকে কৃষকরা হারভেস্টিং মেশিনসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, কৃষি উপকরণের বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সার, বীজ ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে। এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাবেশে তিনি নিমসার সবজি বাজার এলাকায় একটি আধুনিক সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ঘোষণা দেন। এতে কৃষকরা পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রির সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।