সাপ সম্পর্কে এমন তথ্য রয়েছে, যা অবাক করা। কিছু প্রজাতির সাপ মারা যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও তার কামড়ানোর ক্ষমতা অক্ষুণœ থাকে। অনেকের ধারণা, দাঁড়াশ সাপের লেজে বিষ থাকে, মূলত এটি একটি নির্বিষ সাপ। লেজ তো দূরের কথা, এর বিষদাঁতই নেই। আর অজগর সাপ হলো পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম এবং বিষহীন সাপ। এদের বিশেষত্ব হলো, এরা শিকারকে সরাসরি কামড়ে না মেরে, পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। এরপর শিকার মারা যাওয়ার পর, তারা হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়। অজগর ডিম পাড়ার পর নিজের শরীর দিয়ে ঢেকে রাখে এবং পেশির কম্পনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করে ডিমের সুরক্ষা ও উষ্ণতা নিশ্চিত করে। অজগর সাপ বড় হওয়ার পর গরু, মহিষ, কুমির, হরিণ এমনকি মানুষও আস্ত গিলে খেতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিভিন্ন খাবারের মধ্যে স্তন্যপায়ী প্রাণী তাদের পছন্দ। কারণ, সাপ শীতল রক্তের প্রাণী। অজগর সাপ সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। সাপ দিনে চোখে কম দেখে তাই, ধীরে চলে। রাতের আঁধারে সাপ আধুনিক নাইটভীষণ চশমার চেয়ে ১০ গুণ বেশি পরিষ্কার দেখতে পায়। সাপের কোনো কান নেই। এমনকি দৃষ্টিশক্তি প্রখর নয়। সাপ চলাফেরার প্রয়োজনে বারবার জিহ্বা বের করে। সাপের জিহ্বার অগ্রভাগে ‘জেকবসন অর্গান’ নামে এক ধরনের গ্রন্থি আছে, যার মাধ্যমে সাপ বায়ুস্থ বিভিন্ন পদার্থের অস্তিত্ব অনুভব করে। এটিকে ঘ্রাণ নেওয়া বলা যেতে পারে। সাপের স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি নেই। তাই সাপের পক্ষে মানুষকে চিনে রাখা সম্ভব নয়। এরা শুধু বেঁচে থাকার জন্য খাবারের খোঁজে লোকালয়ে আসে। বিভিন্ন দেশে মানুষ খেয়ে ফেলার রেকর্ড পাওয়া যায় অজগরের। সারা বিশে^ ১০ থেকে ১৩ প্রজাতির অজগর সাপ দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনটি প্রজাতি পাওয়া যায় বাংলাদেশে। সাপ মানুষের শত্রু নয়। বরং সাপের সামনে পড়ে গেলে যদি দৌড়ে পালাতে যান বা বেশি লাফালাফি করেন, তাহলে সাপ আত্মরক্ষার্থে তেড়ে আসতে পারে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন।