লেনদেন বাড়লেও ডিএসইর মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকা

ইরানে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বব্যপী শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে গৃহিণীর রান্নার হাঁড়িতে পড়তে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উন্নত দেশের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশের জন্য দিয়েছেন মন্দার পূর্বাভাস। যুদ্ধের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সেটি টেকসই হবে কি না এমন শঙ্কায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে (১২ থেকে ১৬ এপ্রিল) সময়ে সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এ সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎসহ বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। এতে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। সূচকে স্থবিরতা দেখা গেলেও গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের গড় লেনদেনও বেড়েছে ২২ শতাংশ। বাংলা নববর্ষ ‘পহেলা বৈশাখ’ উপলক্ষে মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ছুটি থাকায় গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে কার্যদিবস ছিল মোট চার দিন। সবকিছু বিবেচনা করে, আগামী সপ্তাহে মাঝারি লেনদেন কার্যক্রমের সঙ্গে বাজার কিছুটা তেজিভাব থাকতে পারে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেেেছ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সেটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় বাজারে বিক্রয় চাপ বাড়ছে।

সপ্তাহিক বাজার পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

আলোচ্য সময়ে মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, কমেছে ১৪২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। আর লেনদেন অংশগ্রহণ করেও হাতবদল না হওয়া কোম্পানি ছিল ২২টির। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। যা আগে সপ্তাহ ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা। বাজারটিতে দৈনিক টাকার পরিমাণে গড় লেনদেন হয়েছে ৮১৩ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৭০ কোটি টাকা। এ হিসেবে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১১ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৯ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সিরামিক খাতে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এ ছাড়া এ সময়ে পাট খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ, সেবা ও আবাসন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ হারে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। তাছাড়া এ সময়ে টেলিযোগাযোগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কাগজ ও মুদ্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং জীবন বীমা খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

আরেক শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৭৭৪ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৩৯ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৫০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৪৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১২১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির বাজারদর।