ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল যে লেস্টার সিটি, ঠিক ১০ বছরের মাথায় তারা এখন তৃতীয় স্তরের ফুটবল লিগ (লিগ ওয়ান)-এ নেমে যাওয়ার চূড়ান্ত শঙ্কায়। গতকাল পোর্টসমাউথের কাছে ১-০ গোলের হার ‘ফক্স’দের খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমিত হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে এসেছিল লেস্টার। লক্ষ্য ছিল দ্রুততম সময়ে শীর্ষ স্তরে ফেরা। কিন্তু মাঠের বাইরের আর্থিক জটিলতা (৬ পয়েন্ট কর্তন) এবং মাঠের ব্যর্থ পারফরম্যান্স ক্লাবটিকে টানা দ্বিতীয় অবনমনের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
লেস্টারের হয়ে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গত মৌসুমে লেস্টার যখন প্রিমিয়ার লিগে ধুঁকছিল, হামজা তখন ধারে খেলছিলেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে। কাকতালীয়ভাবে, শেফিল্ড সেবার প্রিমিয়ার লিগে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং লেস্টারও অবনমিত হয়। এবার নিজের মূল ক্লাবে ফিরেও ভাগ্য বদলাতে পারছেন না হামজা। পোর্টসমাউথের বিপক্ষে তিনি মাঝমাঠে লড়াই করলেও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি।
এই হারের পর ৪৩ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ২৩ নম্বরে অবস্থান করছে লেস্টার। লিগের বাকি আর মাত্র তিনটি ম্যাচ। নিরাপদ জোনের চেয়ে বর্তমানে ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা লেস্টারের ভাগ্য এখন সুতায় ঝুলছে। আগামী মঙ্গলবার হুল সিটির বিপক্ষে ম্যাচে জয় না পেলে ১০ বছর আগের সেই রূপকথার নায়কদের জন্য লিগ ওয়ানের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। একটি লিগ শিরোপা জয়ের মাত্র এক দশকের মধ্যে কোনো ক্লাবের এমন পতন আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে বিরল।
২৫ বছর পর প্রিমিয়ারে কভেন্ট্রি
ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে কভেন্ট্রি সিটি। চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রি গত শুক্রবার রাতে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের বিপক্ষে তাদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে। এতে আগামী মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে খেলা নিশ্চিত হয় তাদের। ইউড পার্কের গ্যালারিতে উপস্থিত সাড়ে ৭ হাজার কভেন্ট্রি ভক্তের গগনবিদারী উল্লাসের মধ্যে উৎসবের মধ্যমণি ছিলেন ল্যাম্পার্ড ও তার শিষ্যরা।
এটি ল্যাম্পার্ড ও কভেন্ট্রি উভয়ের জন্যই দীর্ঘ নির্বাসন শেষে যেন এক দারুণ পুনর্জন্ম! ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সাবেক ইংলিশ ও চেলসি মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ডের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপেই কিছু না কিছু প্রমাণ করার ছিল। খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই এটি আমার ভেতরে কাজ করে। আপনাকে সবসময় কিছুর না কিছুর বিপক্ষে লড়তে হয়।’
খেলোয়াড় হিসেবে চেলসিতে ১১টি বড় শিরোপা আর রেকর্ড ২১১টি গোল করা ল্যাম্পার্ডের কোচিং ক্যারিয়ার ছিল বেশ উত্থান-পতনের। কোচ হিসেবে নিজের প্রথম মৌসুমে ২০১৯ সালে ডার্বি কাউন্টির হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফের ফাইনালে হেরে যান তিনি। এরপর চেলসির কোচ হয়ে প্রথম মৌসুমে চতুর্থ হওয়া ও তরুণদের সুযোগ দিয়ে প্রশংসা পেলেও শিরোপাহীন থেকে ছাঁটাই হন ২০২১ সালে। এভারটনকে অবনমন থেকে বাঁচালেও এক বছরের মাথায় সেখানেও চাকরি হারান তিনি। এমনকি ২০২৩ সালে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ফিরে চেলসির হয়ে ১১ ম্যাচের আটটিতেই হেরে যান।
৪৭ বছর বয়সী ল্যাম্পার্ড কভেন্ট্রিতে যখন দায়িত্ব নেন, তারা তখন অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র ২ পয়েন্ট ওপরে ছিল। সেই খাদের কিনারা থেকে দলটিকে টেনে তুলেছেন তিনি। নিজের উন্নতির পেছনে মেন্টরদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘জোসে মরিনিয়োর অধীনে কাজ করা ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। তিনি আবেগপ্রবণ হলেও কৌশল ও দল পরিচালনায় দারুণ শক্তিশালী ছিলেন। অন্যদিকে, কার্লো আনচেলত্তি ছিলেন ভীষণ শান্ত। আমি সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকার চেষ্টা করি। আমি ভুল থেকে শেখার চেষ্টা করি এবং নিজের সত্তাকে ধরে রাখি।’