তাসকিন অন্যদের আদর্শ : ডোনাল্ড

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ এএম

বাংলাদেশের বদলে যাওয়া পেস বোলিং বিভাগের অন্যতম কারিগর ধরা হয় আপনাকে। আপনার সময়ের পেসাররা এখন ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে। অস্ট্রেলিয়ার মতো বিরুদ্ধে কন্ডিশনে সফলতা পাচ্ছে। দেখে কি কিছুটা অবাক হচ্ছেন?

অ্যালান ডোনাল্ড : লোকে এখনো আমাকে মনে রেখেছে এ জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের পেসারদের সাফল্যের পথ ধরে ওপরে উঠতে দেখতে পারা আমার জন্য গর্বের। তারা অস্ট্রেলিয়ায় যা করেছে, সেটা তারা নিজেরাও মনে রাখতে চাইবে। তাদের সামর্থ্য আছে। সেটা তারা প্রয়োগ করেছে। ছেলেরা প্রমাণ করেছে, তাদের বোলিং আক্রমণের মান কতটা ভালো। যেখানে একজন চোট পেলে আরেকজন সামনে এসে শূন্যতা পূরণ করছে। এটি ভালো বোলিং আক্রমণের লক্ষণ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এমন ঐতিহাসিক জয়ে অনেকেই নাহিদ রানাকে না দেখে আক্ষেপ করেছেন। আপনি সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের খেলা দেখেন। তার গতির ঝড় মিস করেছেন?

ডোনাল্ড : সে যেন কীসের চোটে পড়েছে? ও হ্যাঁ, সাইড স্ট্রেইন। পেস বোলারদের ক্যারিয়ারে সাইড স্ট্রেইনের চোট খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। একবার বা দুবার নয়, তিনবার আমার নিজেরই সাইড স্ট্রেইন হয়েছে! আশা করি, সে লম্বা সময় ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্রথম যেদিন তাকে নেটে দেখি। সেদিনই রাসেল ডোমিঙ্গকে বলেছিলাম, এই ছেলেটা বিশেষ কিছু হবে।

একবার দেখেই কীভাবে বুঝলেন নাহিদ রানার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে?

ডোনাল্ড : তাকে প্রথমবার দেখেছিলাম শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজের প্রস্তুতির সময়। চট্টগ্রামে সে তখন নেটে বল করছিল। সে যখন বল করে, তখন সবাই স্থবির হয়ে যায়। সবাই তার প্রতি মুগ্ধ ছিল। আমি এতই রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম যে, তৎকালীন কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে বলেছিলাম, ‘এখানে একটি ছেলে আছে, তোমার দেখা উচিত।’ আমরা দুজনেই যা দেখেছিলাম তাতে খুব রোমাঞ্চিত বললেও কমই প্রশংসা করা হবে। সে এখন বিশ্ব ক্রিকেটে ঝড় তুলছে। সে নিঃশর্তভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। সত্যিই দারুণ ব্যাপার। যখন কেউ এমন উচ্চগতিতে বোলিং করে, তখন সবার মাঝে আগ্রহ তৈরি হয়। তাকে বোলিং করতে দেখা সত্যিই পরম আনন্দের।

বড় ধরনের চোট এড়াতে তার কি বোলিংয়ে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখেন?

ডোনাল্ড : তার অ্যাকশন খুব বেশি জটিল নয়। তাই আমি নিশ্চিতভাবেই বদলানোর পক্ষে থাকতাম না। যেভাবে চলছে, তার জন্যই ভালো হচ্ছে। সে ১৫০ গতিতে বোলিং করছে। যদি তার স্ট্রেস ফ্র্যাকচার বা এ জাতীয় কোনো সমস্যা শুরু হয়, তখন না হয় অন্য কোনো উপায় ভাবা যাবে। আসলে যখন একটা শরীর একটানা খেলার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর সে বাংলাদেশের হয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সংস্করণে। তখন শরীর এমনিতেই ক্লান্ত হতে শুরু করে। তখনই এই ধরনের সমস্যাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এজন্য আপনি তাকে আগলে রেখে খেলাতে চাইবেন।

আপনি তো এখনো বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। আপনাদের সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি কি আছে?

ডোনাল্ড : বল হাতে নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের যে আলোচনা হয়েছিল, তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। আমরা এখনো হোয়াটসঅ্যাপে পেস বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া এবং দলে একজন প্রধান বোলার থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে আলোচনা করি। আরেকটি ছেলে আছে, সম্ভবত সাকিব (তানজিদ হাসান) নাম। সেও মাঝে মধ্যে বার্তা পাঠায়। সেও খুব ভালো পেস আক্রমণের শক্তি যোগ করছে। এতে দল এখন পেসারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতে পারবে।

সাকিব দীর্ঘদিন ধরে চোটে আছেন। তাসকিনেরও চোটপ্রবণ ক্যারিয়ার। তবু তিন সংস্করণেই খেলছেন। তার প্রতি কী পরামর্শ আপনার?

ডোনাল্ড : তাসকিন হয়তো ৫ উইকেটের মতো বড় সাফল্য এনে দিচ্ছে না। দুই বা তিনটি করে উইকেট পাচ্ছে। তবে সে খেলার সুর ঠিক করে দেয়। পেসারদের মধ্যে নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করছে। আমি বলব, সে বল হাতে একজন দারুণ এবং চমৎকার নেতা। জানেন তো, বছরের পর বছর এভাবে টানা খেললে প্রাকৃতিকভাবেই বলের গতি কমে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরেও কিছুটা পরিবর্তন আসে। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ কখনো তার বুদ্ধিমত্তা হারায় না। তাসকিন ঠিক এমনকি একজন। সে জানে কী করতে পারে, সে সেই সীমার মধ্যেই নিজের কাজ করে যাচ্ছে। হয়তো এখন আগের মতো ১৪০ কিলোমিটার (ঘণ্টায়) গতিতে নিয়মিত বল করে না, কিন্তু সে খুব চমৎকার এবং পেশাদারভাবে তার দায়িত্ব পালন করছে। আমার চোখে সে অন্যদের কাছে আদর্শ। বিশেষ কারণেই তাকে এগিয়ে রাখি।

সেই বিশেষ কারণটা কি পরিষ্কার করা যাবে?

ডোনাল্ড : সে তার সতীর্থদের অনেক বেশি সাহায্য করে। যতক্ষণ সে এভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং তার কাজের মাধ্যমে সতীর্থদের সাহায্য করছে, আপনি খুশি না হয়ে থাকতে পারবেন না। বাংলাদেশ দলে তার অবদান অনেক। নেতৃত্ব, তার অভিজ্ঞতায় তাসকিন অন্যদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস জোগায়। বছরের পর বছর ধরে খেললে আপনার ভূমিকাও বদলে যায়। আপনি ক্রমশ একজন রোল মডেল হয়ে ওঠেন। আসলে সে সবসময়ই একজন রোল মডেল ছিল, সে সবসময় আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছে। সে এমন একজন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে, যে সতীর্থের কাঁধে হাত রাখে, সেটা দেখতে পাওয়াটাও সত্যিই দারুণ। তবে একজনের জন্য খুব খারাপ লাগে!

এবাদত হোসেনের কথা বলছেন নিশ্চয়ই?

ডোনাল্ড : ঠিকই ধরেছেন। এবাদতকে ফিরে আসতে দেখাটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার, সে তার কাজ আবার চালিয়ে যাচ্ছে। সে হাঁটুর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিল। আমি যখন সেখানে ছিলাম, তখনই সে হাঁটুতে চোট পড়ে। এটি একটি অদ্ভুত দুর্ঘটনা ছিল। ওহ ঈশ্বর, সেদিন বল করতে গিয়ে সে যেভাবে মাটিতে পড়ে যায়! দেড় বছরের বেশি সময় তো মাঠের বাইরে ছিল। তাকে ফিরে আসতে দেখা দারুণ ব্যাপার। তবে এখন দলে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হাসান (মাহমুদ), শরিফুল (ইসলাম), খালেদ (আহমেদ) আছে।

অস্ট্রেলিয়ায়ও শরিফুল আপনার প্রশংসা করেছেন। দেখেছেন নিশ্চয়?  

ডোনাল্ড : শরিফুলও বল হাতে তার কাজটা খুব ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। যা দেখতে সত্যিই দুর্দান্ত। সে এবং হাসান কেন্টের সঙ্গে লম্বা সময়ের জন্য কাউন্টি চুক্তি করেছে। এটি তোমাদের পুরো পেস বোলিং আক্রমণের মান তুলে ধরছে। মানুষ এখন বিষয়টি দেখতে শুরু করেছে এবং তা সত্যিই চমৎকার। তারা মোস্তাফিজুর রহমানের পথ ধরে এগিয়ে চলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত