স্পিকারের বিস্ফোরক মন্তব্য

লোভ দেখিয়েও দমাতে পারেননি শেখ হাসিনা

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, ‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যেটা শেখ হাসিনা দেখাননি। আমি বলেছি, আমার বয়স ৮০। এখন এগুলো করার সময় নেই। জিয়া পরিবারের বাইরে আমার কোনো চিন্তাচেতনা নেই। যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে শেখ হাসিনার পরেই নিজের অবস্থান হতো।’ গতকাল শনিবার সকালে ভোলার সার্কিট হাউজে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি জীবনে এককভাবে পথ চলেছি। যখন যেটা সত্যি মনে হয়েছে, মুখ তুলে বলেছি। এ জন্য অনেকে নানা রকম কথা বলেছে। আমাকে বলেছে, দল ত্যাগ করে চলে যেতে। মাফিয়া হাসিনা অনেকবার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং খালেদা জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম।

বিএনপির রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি এই দলের অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে। একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তা-ও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। তবে এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। আমার নজর ছিল এলাকা থেকে জনগণ যাতে ভোট দেয়, আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর লোকজন আশা করেছিল আমি যেন একটা ফ্ল্যাগ নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে দুই দুইটা ফ্ল্যাগ নিয়ে এসেছি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই তারেক রহমানের কাছে। তার সঙ্গে আমি জীবনে কথা বলেছি দুই দিন। এ ছাড়া কোনো দিন টেলিফোন হয়নি, দেখাও হয়নি। কিন্তু তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত করেছেন।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।