২০২৫ সালের আগস্টে জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত আরব দেশ কুয়েতে। বৈধ কোনও কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে সে দেশের পুলিশ আটক করে জেলে পাঠিয়ে দেন নুরুল ইসলাম সাগরকে। ১৫ দিন কারাভোগের পর সে দেশের পুলিশ গতকাল শনিবার বাংলাদেশগামী একটি বিমানে তুলে দেয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে সাগর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বুকে ব্যথা অনুভব করেন। বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত দুইটার দিকে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। সাগর ফেনীর পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
নিহত সাগরের ছোট বোন শেফালী আক্তার আরজু বলেন, আমার ভাই মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে হার্ট এটাক করেছেন। বাড়িতে আসলে রাজনীতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে হার্ট এটাক করেন।
শেফালী আক্তার আরও বলেন, আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ। তার শরীরে কোনও রোগ ছিল না। মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে তার হার্ট এটাক অ্যাটাক হয়েছে।
তার বাবা শাজাহান জানান, রাত দুইটার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে এসে আমার ছেলে ঢাকা বিমানবন্দরে মারা গেছে বলে জানায়। লাশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে। এরপর রাতে দুই প্রতিবেশীকে নিয়ে সাগরের মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কুয়েত থেকে আসা একটি বিমান থেকে রাতে নামার পর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে তিনি মারা যান। তার সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী তার মৃত্যুর বিষয়টি পরশুরাম থানাকে অবহিত করলে পুলিশ রাতেই তার পরিবারকে জানিয়ে দেয়।