চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চট্টগ্রামবাসীর হাঁসফাঁস অবস্থা। পিডিবির দক্ষিণাঞ্চলীয় দপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রামে চাহিদার বেশি উৎপাদন হলেও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় পিক আওয়ারে ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা মিলে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না শহর কিংবা মফস্বলে।
পিডিবির দক্ষিণাঞ্চলীয় জোনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকবর হোসেন জানান, জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে গত শনিবার ৯টিই বন্ধ ছিল। বাকি ১৯টিতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উপাদন হয়েছে মোট ২ হাজার ২৮৫ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে পিক আওয়ারে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৪৪৫ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। একই সময়ে লোডশেডিং করতে হয়েছে ১০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে ধুঁকছে চট্টগ্রামবাসী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং দিন দিন বাড়ছে। গ্যাসের চাপ কম থাকার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেসব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে সেগুলো হলো রাউজান ১ ও ২ নম্বর ইউনিট, কাপ্তাই ১, ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট, জুডিয়াক ২, জুলধা ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট এবং টেকনাফের সোলার।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং হচ্ছে দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। একদিকে তীব্র গরম অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদন। মহানগরীর চেয়ে উপজেলাগুলোয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী শনিবার চট্টগ্রামে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা অফ পিক আওয়ারে ছিল ১৩৭৮ দশমিক ১০ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ১৪৪৫ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। ওইদিন অফ পিক আওয়ারে ৪০ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ১০৭ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।
বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পিক আওয়ার সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে অফ পিক আওয়ার হলো রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। জানা গেছে, বিদ্যুতের অভাবে বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শিল্প-কারখানা, ফ্ল্যাট বাড়িসহ বড় বড় অফিস-আদালতে জেনারেটর চালিয়েও বিদ্যুৎ সংকট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলার মানুষ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ। উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। পবিস-১ চট্টগ্রাম দক্ষিণের আট উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া। পবিস-১ চট্টগ্রাম জেলার ৭টি জোনাল অফিস, ১টি সাব-জোনাল অফিস, ১টি এরিয়া অফিস এবং ২৩টি অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে থাকে।
জানা গেছে চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও বাকলিয়াসহ নগরের প্রায় সব এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে তা ফিরতে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ওয়াসা পর্যাপ্ত পানি পাম্প করতে না পারায় অনেক এলাকায় পানির হাহাকার শুরু হয়েছে। পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল মান্নান বলেন, তীব্র গরমে শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে পাম্প না চলায় পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজ স্থবির হয়ে গেছে।