হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে বিষাক্রান্ত স্কুল ছাত্রের চিকিৎসায় গড়িমসিকে কেন্দ্র করে স্বজন ও স্টাফদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে দুই দফায় রোগীর স্বজন ও স্টাফরা হাসপাতাল অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও স্টাফদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রোগীর স্বজনরা জানান, রাত সাড়ে ৯টায় শহরতলীর যশের আব্দা গ্রামের জুয়েল মিয়ার ছেলে ও হবিগঞ্জ হাইস্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি শিক্ষার্থী সায়েম মিয়া বিষাক্রান্ত হন। তাৎক্ষনিক স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজীবসহ স্টাফরা তার দ্রুত চিকিৎসা না দিয়ে গড়িমসি করেন। এ নিয়ে রোগীর স্বজন ও স্টাফদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে হাসপাতালের স্টাফরা উত্তেজিত হয়ে গেইটে তালা দিয়ে রোগীর ৭/৮ জন স্বজনকে অবরোধ করে রাখেন এবং মারধর করেন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিষাক্রান্ত রোগী সায়েমকে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ এনে স্টাফদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে তার স্বজনরা। এ নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্বজনরা স্টাফদের উপর আক্রমনাত্মক হয়ে উঠলে তাদের অবরোধ করে রাখা হয়। এ ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশের আব্দা ও কামড়া পুর এলাকা থেকে রোগীর ১৫/২০ জন স্বজন হাসপাতালে আসেন। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকারসহ স্টাফদের আটকিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
হাসপাতালে দু দফা রোগীর স্বজন ও স্টাফরা অবরুদ্ধ থাকার ঘটনায় প্রায় ২ ঘণ্টা চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে সাধারণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়।
রোগীর মামা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাগিনা সায়েমকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই চিকিৎসক ও স্টাফরা গড়িমসি করেন। তাকে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে তাদের সাথে আমাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এতে স্টাফরা উত্তেজিত হয়ে আমাদের তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং আমাদের মারধর করেন’।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘বিষাক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ এনে স্টাফদের সাথে অশোভন আচরণ করেন স্বজনরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়’।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে এক বিষাক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিয়ে স্টাফ ও রোগির স্বজনদের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন’।