যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তবে ইসলামাবাদের এই উদ্যোগ সত্ত্বেও তেহরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রথম দফার মতো ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এবার আলোচনাটি কয়েক দিনব্যাপী হতে পারে। এতে একটি সাময়িক সমঝোতা বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই সমঝোতা কার্যকর হলে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের অংশগ্রহণের ওপর। সোমবার সকাল পর্যন্ত তেহরান ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি 'সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন' করেছে। তার দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি নৌযানগুলো একটি ফরাসি ও একটি ব্রিটিশ জাহাজসহ কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য চুক্তি প্রস্তাব করছে। তবে ইরান তা না মানলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
এদিকে সোমবার ভোরে ট্রাম্প দাবি করেন, ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করেছে। তার ভাষায়, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত হেনে সেটিকে থামায় এবং পরে ইউএস মেরিনরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, জাহাজটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তবে ইরান এই ঘটনাকে জলদস্যুতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।