১০-১-৩৫-৫: বৈশাখের আগুনে দুপুরে নাহিদের আগুন ঝরা বোলিং

বৈশাখের তপ্ত রোদ, মাঝদুপুরে মাথার উপরে সূর্য যেন আগুন ঝরাচ্ছে। এমন পরিবেশেই জ্বলে উঠলেন নাহিদ রানা, গ্রীষ্মের তাপদাহের সঙ্গে নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে পুড়ল নিউজিল্যান্ডও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীরবারের মত ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ,  ১০ ওভারে ৩২ রানে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠিয়েছে ড্রেসিংরুমে। মাত্র ৩ ম্যাচ আগে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন নাহিদ। 

ম্যাচের অষ্টম ওভারে নাহিদ রানাকে বল দিয়েছিলেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম বলেই নাহিদ বিদায় করেন উইকেটে থিতু হয়ে ওঠা হেনরি নিকোলসকে। প্রায় ১৪৫ কিঃমি/ ঘন্টা গতির বলে লেগ বিফোর উইকেট হয়ে ফিরে যান ২৬ বলে ১৩ রান করা নিকোলস। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেও প্রথম বলে উইকেট রানার, এবারে তার শিকার উইল ইয়ং। বাড়তি গতি ও বাউন্সে পরাস্ত হন ইয়ং, ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত'র হাতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে।

রানার তৃতীয় উইকেটে অবশ্য তার চেয়ে লিটন দাসের কৃতিত্বই বেশি। বাউন্সারে পুল করতে চেয়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। বল লাগে ব্যাটের উপরের কানায়, হাওয়া ভেসে থেকে চলে যায় ফাইন লেগের দিকে। উইকেটরক্ষক লিটন অনেকটা দৌড়ে শেষ সময়ে শরীরকে টানটান করে দেয়া ঝাঁপে তালুবন্দী করেন কঠিন একটা ক্যাচ। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে চতুর্থ শিকার নাহিদের, ম্যাচে তৃতীয়বারের মত পেলেন ওভারের প্রথম বলেই উইকেট। এবারের শিকার ডিন ফক্সক্রফট, আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।শর্ট পিচ ডেলিভারি, ডিপ মিডউইকেটে রাখা ফিল্ডার; এই ফাঁদে পা দিয়েই বিদায় নিলেন ৩৫ বলে ১৫ রান করা ফক্সক্রফট। দূরহ ক্যাচটা ধরেছেন তাওহিদ হৃদয়। জেডন লেনক্সকে বোল্ড করে 'ফাইফার' পূর্ণ করেন নাহিদ রানা। লেনক্স একটু লেগসাইডে সরে জায়গা বানিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন, স্টাম্প বরাবর ধেয়ে আসা ১৪২ কিলোমিটার গতিবেগের বলটা থামাতে সময়মত ব্যাট নামাতে পারেননি এই লেগস্পিনার। তাকে শুন্য রানে বিদায় করেই ৫ উইকেট নিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়েন নাহিদ রানা। ম্যাচে সেটাই ছিল তার স্পেলের শেষ ওভার, পরের বলেও জোরাল লেগবিফোর উইকেটের আবেদন ছিল রানার এমনকি রিভিউও নিয়েছিলেন। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল যাচ্ছিল লেগসাইডের বাইরে। তাই আরেকটা উইকেট হল না নাহিদের, হলো না নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

১০ম ওয়ানডে খেলতে নেমেই ২ বার ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা,একটা সময় শুধুই টেস্টের জন্য তাকে বিবেচনা করা হলেও সাদা বলে রানা নিজের সামর্থ্যটা প্রমাণ করেছন দ্রুতই। উইকেটে প্রাণ থাকলে নাহিদ রানা দলে থাকা মানেই তুরুপের টেক্কা হাতে থাকা, তবে প্রথাগত মিরপুরের উইকেটে রানা হয়ে ওঠেন দলের বোঝা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপকে সামনে রেখে টনি হেমিং মিরপুরে বানাচ্ছেন স্পোর্টিং উইকেট, তাতে রানার সুবিধা হলেও সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের যে অসুবিধা! সাইফ হাসান আর সৌম্য সরকারের আউট হওয়ার ধরণ সেই পুরানো সত্যটাই সামনে আনল আবার।