রাশিয়া-ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ, যে কথা হলো

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জানা গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন দুই দেশের দুই মন্ত্রী। ফোনালাপটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

সোমবার (২০এপ্রিল) রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে এই আলোচনায় উভয় নেতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। ফোনালাপের একপর্যায়ে লাভরভ একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং চলমান সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিশ্চিত করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার জাহাজ এবং পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করতে পারে, ইরান সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। 

এদিকে, চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা ঘিরে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আরব পার্সপেকটিভস ইনস্টিটিউট-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদোন আলকিনানি আল জাজিরাকে বলেন, ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতি মানেই যে কোনো চুক্তি সই হবে-এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আলকিনানি বলেন, যুদ্ধবিরতি চূড়ান্তভাবে শেষ হবে নাকি মেয়াদ বাড়ানো হবে-সে সিদ্ধান্ত নেবেন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা।

তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সংঘাত নিরসনে নিজেদের আগ্রহ ও প্রচেষ্টার বার্তা দিতে চাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের বর্তমান অবস্থান যুদ্ধের শুরুতে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গির সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। আলকিনানির মতে, ইরান ভালো করেই জানে যে, এই আলোচনা কেবল যুদ্ধ থামানোর জন্য নয়-বরং নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।