হাফেজের পরিবারের জন্য সুসংবাদ

পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য আল্লাহর সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ হেদায়াত। এটি কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির পথপ্রদর্শক। এই মহান গ্রন্থটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। কোরআনের এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে যারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন, তাদের অন্যতম কোরআনের হাফেজরা, যারা আল্লাহর কিতাব অন্তরে ধারণ করেন, মুখস্থ করেন এবং তা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন। তাদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। পরিবারের জন্যও রয়েছে সুসংবাদ।

কোরআন সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি : আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় আমিই কোরআন অবতারণ করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী।’ (সুরা হিজর ৯) এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেছেন। আর সেই সংরক্ষণের এক মহৎ মাধ্যম হলেন কোরআনের হাফেজরা। আল্লাহর এই দায়িত্ব পালনে হাফেজরা সম্মানজনক অংশীদার।

হাফেজের মর্যাদা : রাসুল (সা.) কোরআনের হাফেজের মর্যাদা ও গুরুত্ব নিয়ে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

সবার মধ্যে শ্রেষ্ঠ : ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সে, যে কোরআন শিখে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি ৫০২৭) এই হাদিস প্রমাণ করে, যারা কোরআন শিখে এবং তা অন্যকে শেখায়, তারা মানবজাতির শ্রেষ্ঠ অংশ। কোরআনের হাফেজ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

জান্নাতে হাফেজের মর্যাদা : ইরশাদ হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন কোরআনের সাথীকে (হাফেজ) বলা হবে, পাঠ করো, উন্নীত হতে থাকো এবং ধীরে ধীরে পড়ো, যেমন তুমি দুনিয়ায় পড়তে। তোমার অবস্থান হবে সেই আয়াত পর্যন্ত, যেখান পর্যন্ত তুমি তেলাওয়াত করবে।’ (আবু দাউদ ১৪৬৪) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, কোরআনের হাফেজ কেয়ামতের দিন জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে, তার স্তর নির্ধারিত হবে তার হিফজ অনুযায়ী।

পরিবারের সুসংবাদ : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে, শিখে এবং তার ওপর আমল করে, কেয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো সূর্যের চেয়েও উত্তম।’ (আবু দাউদ) এই হাদিস কোরআনের হাফেজের পরিবারের জন্য এক বিরাট সুসংবাদ বহন করে। শুধুমাত্র হিফজের কারণে পিতা-মাতা জান্নাতে বিশেষ সম্মান লাভ করবেন।

হাফেজের দায়িত্ব : হাফেজ হওয়া যেমন ফজিলতের কাজ, তেমনি কিছু দায়িত্বও রয়েছে। এক. কোরআন নিয়মিত তেলাওয়াত করা। নিয়মিত তেলাওয়াত না করলে তা স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। দুই. কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনা করা। শুধু মুখস্থ করাই যথেষ্ট নয়, বরং কোরআনের হেদায়াত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই প্রকৃত হাফেজের বৈশিষ্ট্য। তিন. কোরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা। কোরআনের হাফেজ অন্যদের কোরআন শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে আল্লাহর বাণী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

সমাজে হাফেজের মর্যাদা : সমাজে হাফেজরা ইমামতি, খুতবা, কোরআন প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পান। অনেক মুসলিম দেশে হাফেজদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।

সৌভাগ্যের বিষয় : কোরআনের হাফেজ হওয়া নিঃসন্দেহে বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। এটি শুধু দুনিয়ায় নয়, আখেরাতেও অশেষ মর্যাদা, সম্মান ও কল্যাণের উপায়। তবে এটি এক বিশাল দায়িত্বও বটে। হাফেজদের উচিত কোরআনের হিফজ সংরক্ষণ এবং সমাজে কোরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত কোরআনের হাফেজে রূপান্তর করা। মহান আল্লাহ সবাইকে কোরআনের সঠিক হক আদায় করার তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিআতুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া গাজীপুর