সংরক্ষিত আসনে চমক জামায়াত জোটে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী জাবির। সেই জাবিরের মাকে নিজ দলের মনোনয়নে সংসদে নিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। শহীদের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দিয়ে জুলাইয়ের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া আনুপাতিক হারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি নারী আসন পেলেও তাদের দুইটি আসন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) একটি আসন দিচ্ছে জামায়াত।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসনসহ ৭৬ আসন পেয়ে বিরোধী জোট গঠন করে ১১ দল। সেই হিসাবে তারা মোট ১৩টি সংরক্ষিত মহিলা আসন পাবে। প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী জামায়াতের ১১টি সংরক্ষিত আসন পাওনা হলেও শরিকদের জন্য ছাড় দিয়ে আটটি সংরক্ষিত আসনে নিজেদের প্রাথী মনোয়ন দিয়েছে দলটি। গতকাল সোমবার রাতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাদের নাম ঘোষণা করেন।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু।

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আসন সমঝোতা নিয়ে যখন ১১ দলে নানা টানাপড়েন শুরু হয়, সেই সময় অনেক দল কাক্সিক্ষত আসন না পেলে জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকিও দেয়। কিন্তু এমন সময় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জোটের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের আসন ছেড়ে দেয়। কোনো আসনে নির্বাচন না করলেও জোটের প্রায় সব কর্মসূচিতে সরব ছিলেন দলটির মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তার এই উদারতার মূল্যায়ণ করার প্রতিশ্রুতি জামায়াত তখনই দিয়েছিল। নির্বাচনের পর এখন সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

তারা বলছেন, জামায়াত চাইলে ভাগে পড়া ১১ আসনেই নিজেদের দলীয় নেত্রীদের মনোনয়ন দিতে পারত। কিন্তু জোট এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবার অংশগ্রহণের যতটুকু সম্ভব সুযোগ করে দিয়েছে। জামায়াতের নির্বাচিত অনেক এমপির আত্মীয়-স্বজন যোগ্য থাকার পরও তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এমনকি জামায়াত আমিরের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন, তাকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেমের (আরমান) বোন এবং প্রয়াত মীর কাসেম আলীর মেয়ের নামও খুব জোরেশোরে আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যেসব এলাকা থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য নেই, সেসব এলাকার যোগ্য নেত্রীদের প্রধান্য দিয়েছে দলটি।

জামায়াত থেকে যারা সংসদ সদস্য হচ্ছেন, তারা হলেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও মহিলা বিভাগের সদস্য মারদিয়া মমতাজ, মহিলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সিলেটের নেত্রী মাহফুজা সিদ্দিকা, বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ এবং খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি সামসুন নাহার।

এনসিপির দুজনের মধ্যে নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন নিজ দলের কোটায় মনোনয়ন পেয়েছেন। আর সংগঠনটির সচিব মাহমুদা আলম মিতুকে জামায়াত কোটা থেকে ছাড় দিয়েছে। আর জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধানকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে জামায়াত। দুইজন সংসদ সদস্য পেলেও জোটের কল্যাণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মাহবুবা হাকিমকে। নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা মাওলানা দলটির আমির মামুনুল হকের ভাগনি বলে জানা গেছে।