কোয়েল পাখি পালন করে লাভবান হবেন

আমাদের দেশে দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কোয়েল পালন। কোয়েল পালন করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। অনেকে কোয়েল পালন করে হয়েছেন উদ্যোক্তা। এমনই একজন সিরাজগঞ্জের উদ্যোক্তা এহতেশামুল হক। তিনি জানালেন কীভাবে কোয়েল পাখি লালন-পালন করে আজ সাবলম্বী হয়েছেন।

 কোয়েল পাখি পালন অল্প পুঁজি ও কম জায়গায় লাভজনক একটি খামার ব্যবসা। দ্রুত বংশবৃদ্ধি, কম খাদ্য খরচ এবং স্বল্প সময়ে ডিম ও মাংস উৎপাদনের কারণে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সঠিক খাদ্য, পরিষ্কার পরিবেশ ও নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করলে কোয়েল থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। বাজারে এর ডিম ও মাংসের চাহিদা থাকায় সহজেই বিক্রি করে লাভবান হওয়া যায়।

 কোয়েল পালনের ক্ষেত্রে প্রথমে আবাসন, খাবার, কোয়েলের সুস্থতা ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে জানতে হবে। কোয়েলের আবাসন হলো খাঁচা। খাঁচা একটু বড় সাইজের হলে ভালো হয়। তাহলে কোয়েল একটু নড়াচড়া ও হাঁটাহাঁটি করতে পারে। প্রতি বর্গফুটে ৮টি পাখি পালন করা যায়।

সাধারণত অনেকে বলে থাকেন কোয়েলের কোনো রোগবালাই হয় না। শুধু ডিম পাড়ার জন্য মাদি কিনলে হবে। আসলে এটা ঠিক না। কোয়েলের পানি খাওয়ার ও খাবারের পাত্র আলাদা লাগবে। সময় মতো পানি ও খাবার দিতে হবে। আর সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। কোয়েলের সবচেয়ে ভয়ংকর রোগ হলো আসিরিটিভ এনটিরিটিস। এই রোগটি হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব কোয়েল পাখি মরে যায়। তাই খুব সচেতন থাকার দরকার হয়।

কোয়েলের কৃমিও হতে পারে। কৃমি রোগে আক্রান্ত হলে কোয়েল মরবে না। তবে ডিম দেওয়া কমে যাবে। তবে বেশি অসুস্থ হয়ে গেলে কিছুদিন পর মারা যাবে। আরেকটি সমস্যা হলো পাখির আমাশয়। ওষুধ খাওয়ালে সুস্থ হবে। তবে ডিম দেওয়া কমে যাবে। কোয়েলের চোখ ফুলে যাওয়া রোগও হয়। পাখির বিষ্ঠা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস বের হয় এর ফলে অনেক সময় চোখ ফুলে যায়। কোয়েলের খাঁচায় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে আর সমস্যা হবে না। তবে ডিম দেওয়া কমে যাবে। লিটারে ফাঙ্গাস হতে পারে যা খেলে কোয়েল বাঁচবে না।

খাঁচায় কোয়েল পালন করলে রোগবালাই কম হবে। এছাড়ও কোয়েল পাখি উড়ে। উড়তে গিয়ে কখনো ডিমের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে ডিম ভেঙে যায়। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। কোয়েল পালনে ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তবে সেটি সঠিক নিয়মে করতে হবে। লিটার পদ্ধতিতে কোয়েল পালনের অসুবিধা ও খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধাগুলো জানতে হবে।

কোয়েলকে ভালো মানের খাবার দিতে হবে। নিম্নমানের খাবার দিলে কোয়েলের আমাশয় বা পেটে সমস্যা দেখা দেবে। ভ্যাকসিন দিলে হয়তো সুস্থ হবে কিন্তু ততক্ষণে পাখির ডিম দেওয়া কমে যাবে। পাখি যদি অসুস্থ থাকে তাহলে পাখি সাধারণত ডিম পাড়ে না। লিটারে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাই খাঁচায় পালন করা ভালো।