চট্টগ্রামের বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে নানা নাটকীয়কতার পর ফলাফল না জানিয়ে বেরিয়ে গেলেন নির্বাচনে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও আইনজীবীদের হট্টগোলের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। পরে তারা একজন সিনিয়র আইনজীবীর কাছে ব্যালট পেপারের ফাইল তুলে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যান।
জানা যায়, বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন করার লক্ষ্যে গত ২০ জানুয়ারি ৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে সব পেশাজীবীর নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেলে বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনও স্থগিত হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১৫ এপ্রিল ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের দিনে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আবু নাছের এবং অ্যাডভোকেট এ আর এম তাকছিমুল গনি ইমন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ফরম জমাদানের দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ আর এম তাকছিমুল গনি ইমনের আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়ে তাতে অ্যাডভোকেট আবু নাছেরকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি ঘোষণা করলে তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কমিশনের একপক্ষ নির্বাচনের পক্ষে এবং আরেক পক্ষ স্থগিতের পক্ষে। সেটা রোধে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় বসে নির্বাচন করার উদ্যোগ নেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও আইনজীবীদের হট্টগোলের কারণে ঘণ্টাখানেক পরে কর্মকর্তারা রুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি ছিল। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে অবরুদ্ধ নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা একজন সিনিয়র আইনজীবীকে ব্যালট পেপারের ফাইল জানালা দিয়ে তুলে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসেন।
বিকাল ৫টার দিকে আদালতের মাঠে অ্যাডভোকেট এ আর এম তাকছিমুল গনি ইমন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এখানে কোনো নির্বাচন হয়নি। মব সৃষ্টি করে যে রায় নিজের পক্ষে নিতে চাচ্ছে তার আইনগত ভিত্তি নেই।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল, নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. সাইফুদ্দিন ও অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।