বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সম্পর্কের ধরন বদলে যাচ্ছে। প্রায় ২৫ বছরের উন্নয়ন সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে রাজনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তরের জন্য গতকাল সোমবার উভয়পক্ষ একটি চুক্তির (পার্টনারশিপ অ্যান্ড কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট-পিসিএ) খসড়ায় অনুস্বাক্ষর করেছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ইসির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কাল্লাসের মধ্যে গতকাল আলোচনার পর উভয়পক্ষ পিসিএর খসড়ায় সই করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিষয়ক সচিব ড. নজরুল ইসলাম ও ইইউর বহিঃকার্যক্রম-বিষয়ক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা প্যাম্পালোনি চুক্তির খসড়ায় অনুস্বাক্ষর করেন।
উভয়পক্ষ এক বছরের বেশি সময় ধরে কর্মকর্তা পর্যায়ে পাঁচ দফা আলোচনার পর ৮৩টি ধারাসংবলিত চুক্তিটি সইয়ের বিষয়ে একমত হয়। ইইউর নিয়ম অনুযায়ী খসড়া চুক্তিটি ২৪টি ভাষায় অনুবাদ করে সংস্থাটির ২৭ সদস্য-রাষ্ট্রের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অন্যদিকে একই দলিল বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় যাবে। উভয়দিক থেকে অনুমোদন মিললে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।
পিসিএর আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, প্রতিরক্ষা, দক্ষ অভিবাসন, ইন্টারনেট নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংযুক্তি, জ¦ালানি, কৃষি, মৎস্য ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ ৩৫টি খাত রয়েছে। পিসিএর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা, শক্তিশালী মুক্তবাজার অর্থনীতি, ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশের বিকাশ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। পিসিএ চূড়ান্ত সই ও কার্যকর হলে উভয়পক্ষের মধ্যে ২০০১ সালে সই হওয়া সহযোগিতা চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।
ঢাকায় গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কায়া কাল্লাস ও খলিলুর রহমানের মধ্যে আলোচনায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমমান ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। তারা একটি ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্বের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পিসিএকে স্বাগত জানান। উভয়পক্ষ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরুর ওপরও গুরুত্বারোপ করে।