স্বপ্ন বাস্তব হোক

আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ৬ মাসের রোডম্যাপের আওতায় এর সূচনা হবে। শেষ হবে ৫ বছরে, ২০৩১ সালে। বর্তমানে ১৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির চুক্তি রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে মালয়েশিয়া। ওই দেশে জনশক্তি রপ্তানি বর্তমানে বন্ধ। সরকার চেষ্টা করছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও জনশক্তি রপ্তানির। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মালয়েশিয়ান সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। আশা করা যায়, অচিরেই বন্ধ দুয়ার উন্মুক্ত হবে। অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গমনের কারণে ওই দেশের সরকার বাংলাদেশি শ্রমিকদের রপ্তানিতে আগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। বিষয়টি আমাদের জন্য স্পর্শকাতর। আমরা চাই, দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজারটিতে পুনরায় বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ। জনশক্তি রপ্তানি খাতে বৈধভাবে যারা ব্যবসা করছেন তাদের উচিত অবৈধপথে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি প্রতিরোধে সরকারকে সহায়তা করা।

সম্প্রতি অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে, আন্দামান সাগরে ২৭৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। যাত্রীদের অধিকাংশই মারা গেছে বা নিখোঁজ রয়েছে। এই দুঃখজনক ঘটনা প্রতি বছর অব্যাহতভাবে ঘটছে। বিশেষ করে, সাগর তীরবর্তী উপজেলাগুলোর তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। যেহেতু প্রান্তিক জীবনে কর্মসংস্থান নেই বললেই চলে। সরকারও প্রান্তিক জনপদে কর্মসংস্থানের ব্যাপক উদ্যোগ আয়োজন করতে পারেনি বলে বেকার সংখ্যা বেড়েছে। কর্মসংস্থান করা গেলে, তাদের অধিকাংশই অবৈধপথে ট্রলারে মালয়েশিয়া যেতে উৎসাহী হতো না। দেশের অন্যান্য স্থানেও কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায়, বিদেশমুখী তরুণরা বেপথে বিদেশে যেতে চায়। এতে সন্ত্রাসী, অসামাজিক শক্তির লোকেরা টোপ ফেলে তরুণদের জড়ো করে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটা অঙ্ক ব্যয় করে বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্নে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। এই অবৈধ স্বপ্ন প্রতিরোধ করে তাদের সহজ ও বৈধপথে আনতে হবে। প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তারা আমাদের অর্থনীতির যোদ্ধাই কেবল নয়, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় প্রবাহ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি আপাতত ব্যাহত হচ্ছে।

আশা করা যায়, পরিস্থিতি উন্নত হলে সেসব দেশে আবারও জনশক্তি রপ্তানি সহজ হবে। তবে আরও বহু দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ এবং কারিগরি বিদ্যায় পারদর্শী তরুণদের জন্য পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও সেই সুযোগ রয়েছে। প্রাচ্যের জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, কম্বোডিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তবে সেসব দেশে অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে দক্ষ ও কারিগরি, প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন শ্রমিকের চাহিদা বেশি রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের স্বদিচ্ছার অভাব নেই। তবে তার প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই। মধ্যপ্রাচ্যসহ সব দেশেই দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা ভালো। আমাদের যে ১ কোটি ৩০ লাখ শ্রমিক বিদেশে আছেন, তাদের অধিকাংশই অদক্ষ হওয়ায়, তারা কম বেতনে চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা যদি দক্ষ হয়ে বিদেশে যেতেন তাহলে সুযোগসুবিধাসহ ভালো বেতনও পেতেন। সরকারের লক্ষ্য দক্ষ শ্রমিক পাঠানো। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে যারা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাদেরই আগে নির্বাচন করা উচিত। তাহলেই কেবলমাত্র সরকার তার পরিকল্পিত ১ কোটি দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়ে কর্মসংস্থান করতে সক্ষম হবে। আমরা ওই স্বপ্ন বাস্তব হোক, এটাই চাই।