বিস্ময়কর ড্রাগন ব্লাড ট্রি

ইয়েমেনের ‘ড্রাগন ব্লাড ট্রি’ বিস্ময়কর গাছ। ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া গাছটি বিশ্বের আর কোথাও জন্মায় না। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান গাছগুলো প্রাগৈতিহাসিক অরণ্যের অবশিষ্টাংশ। প্রায় সাড়ে তিন কোটি বছর আগে, মূল আরব ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ। ফলে চারটি দ্বীপে বিবর্তনের প্রভাব পড়েনি। তার জেরে এখনো টিকে রয়েছে প্রাচীন হরেক প্রজাতির গাছ। বর্ষায় দ্বীপপুঞ্জের আবহাওয়া ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে। বাতাসে উপস্থিত জলকণা পাতার সাহায্যে শুষে নেয় তারা। এরপর শাখা-প্রশাখা এবং শিকড়ের সাহায্যে শরীরে তা পৌঁছায়। ওপরের অংশে থাকে সবুজ পাতার ঠাসবুনোট, যা দূর থেকে ছাতার মতো দেখায়। গাছে ছোট কুলের মতো টকটকে লাল রঙের ফল হয়। মনে করা হয়, বিশ্বখ্যাত স্ট্র্যাডিভ্যারিয়াস বেহালা রাঙাতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। গাছের গাঢ় লাল রস থেকেই স্থানীয়দের মুখে, গাছটির নাম হয় ড্রাগন ব্লাড ট্রি। গাছটির নামকরণ এমন তরল নির্গত হওয়ার কারণে। তরলটি হাতে নিলে মনে হয়, রক্ত লেগে রয়েছে। দূষণের কারণে এই বিরল গাছের অস্তিত্ব সংকটময় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তনের জেরে আর্দ্রতা হারাচ্ছে এই অঞ্চলের বাতাস। ফলে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে ড্রাগন ব্লাড ট্রি-রা। গাছগুলো শত শত বছর বেঁচে থাকে, অনেক ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৭০০ বছর বা তারও বেশি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী ২০৮০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বুক থেকে চিরবিদায় নেবে প্রকৃতির অন্যতম আদিম সন্তান।