জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টার মামলায় যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগমকে গতকাল মঙ্গলবার হাজির করা হয় ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। দেড় মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে আদালতে আসেন তিনি। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি নিয়ে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। কোলে শিশু নিয়ে শিল্পী বেগমের কান্নারত ছবি সম্বলিত প্রতিবেদন আসে গণমাধ্যমে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া হয়। পরে রাতে মানবিক বিবেচনায় শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাচেষ্টার মামলায় গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) শেখ নজরুল ইসলাম আসামি শিল্পী বেগমকে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আরজি জানান। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুরের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম।
আদালতে এ সময় শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, গত ৪ মার্চ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিল্পী বেগম কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি মাতৃদুগ্ধ পান করে। এ ছাড়া বাথরুমে পড়ে শিল্পী বেগমের বাম হাত ভেঙে গেছে। শিশুসন্তানটিকে ঠিকমতো কোলেও নিতে পারেন না।
হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় শিল্পী বেগম বলতে থাকেন ‘সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। কারাগারে গেলে আমার বাচ্চাটা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমার সাথে নেব না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা, রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’ জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় শিল্পী বেগমকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। পরে রাতেই তার জামিন মঞ্জুর হয়। তার আইনজীবী ফারজানা ইসলাম রাখী বলেন, এদিন জামিন হলেও শিল্পী বেগম আজ বুধবার কারা মুক্তি পাবেন।