'নাহিদ যেন এ যুগের ওয়াকার ইউনিস'— রানার গতিতে মুগ্ধ শন টেইট

নাহিদ রানার আগুনের গতিতে এখন বিমোহিত ক্রিকেট অঙ্গন। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে টানা বল করে যাওয়া এই তরুণকে নিয়ে এবার বড় মন্তব্য করলেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট। চটগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে টেইট জানান, নাহিদের বোলিং তাকে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের কথা মনে করিয়ে দেয়।

গত ম্যাচে নাহিদের বোলিং বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টেইট বলেন, "গত ম্যাচে নাহিদের ইয়র্কারগুলো আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে। ওকে দেখে আমার ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। একজন খাঁটি ফাস্ট বোলার আসবে, শুরুতে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেবে এবং শেষে বিধ্বংসী ইয়র্কারে লেজের ব্যাটসম্যানদের সাজঘরে ফেরাবে—ফাস্ট বোলিংয়ের এই সৌন্দর্যটাই আমি পছন্দ করি।"

টেইট নিজেও ছিলেন গতির রাজা, কিন্তু নাহিদের ফিটনেস তাকে অবাক করেছে। নিজের সঙ্গে তুলনা করে টেইট বলেন, "ওর সঙ্গে আমার অনেক মিল থাকলেও কিছু পার্থক্য আছে। আমি বেশ ভারি ছিলাম, তাই জোরে বল করতে শরীরকে অনেক কষ্ট দিতে হতো। কিন্তু নাহিদ লিকলিকে গড়নের এবং অসম্ভব শক্তিশালী এক অ্যাথলেট। আমার চেয়ে ওর চোটের ঝুঁকি অনেক কম, সে আমার চেয়েও বেশি ফিট।"

নাহিদ রানা ও শরীফুলের ইসলামের সঙ্গে শন টেইট

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলাররা যখন স্লোয়ার বা নানা বৈচিত্র্য নিয়ে ব্যস্ত, টেইট তখন নাহিদকে পরামর্শ দিচ্ছেন স্রেফ গতিতে মনোযোগ দিতে। তিনি বলেন, "নাহিদের ভাণ্ডারে স্লোয়ার আছে, কিন্তু প্রয়োজন না হলে তা দেখানোর দরকার নেই। যেখানে অন্য বোলাররা ১৩০ গতিতে বল করে বৈচিত্র্য খুঁজতে বাধ্য হয়, নাহিদ সেখানে তার ১৪৫+ গতি আর বাউন্স দিয়েই উইকেট আদায় করতে পারে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান, আমি চাই সে আপাতত বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।"

নাহিদ রানা ছাড়াও জাতীয় দলে নতুন আসা রিপন মন্ডল ও সাকলাইন সজীবদের নিয়ে উচ্ছ্বসিত টেইট। গত এক বছরে বাংলাদেশের পেস ইউনিটের সামগ্রিক উন্নতি নিয়ে তিনি বলেন, "আমি এই পেস বোলিং গ্রুপের অংশ হতে পেরে গর্বিত। আমাদের বোলাররা এখন যেকোনো কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়া হোক বা জিম্বাবুয়ে—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ নিতে তারা এখন প্রস্তুত।"

নাহিদ রানার মতো একজন 'গতিদানব' বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদ বলে মনে করেন এই অজি কোচ। এখন দেখার বিষয়, টেইটের এই আত্মবিশ্বাস আর নাহিদের গতি মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে কতটা সাফল্য এনে দেয়।