আবারও যুদ্ধে জড়ালে বিপদে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র!

ইরানের সঙ্গে মাত্র সাত সপ্তাহের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়েছে, কমে গেছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। পেন্টাগনের গোপন মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঠিক এই সময়ে আবারও যুদ্ধে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে গোলাবারুদ ঘাটতির ‘স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে। তবে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।

সিএনএন জানিয়েছে, গত সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪৫ শতাংশ স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করেছে। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘থাড’-এর অন্তত অর্ধেক এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ এয়ার ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ করেছে।

সেন্টার ফর স্ট্রাটিজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি পেন্টাগনের গোপন তথ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

চলতি বছরের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে কয়েকটি চুক্তি করলেও পেন্টাগন জানিয়েছে, নতুন করে এসব অস্ত্রের মজুদ পূরণ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও রয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের মতো সমমর্যাদার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই সময়ে মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র আর মজুদে নেই। এই ঘাটতি পূরণ করে আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগবে। অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যবহার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে সাময়িকভাবে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। মজুদ পুনরুদ্ধারে এক থেকে চার বছর এবং প্রয়োজনীয় মাত্রায় বাড়াতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।

তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ, দীর্ঘপাল্লার জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এসব মজুদ পূরণ করতে প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না। তবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় তিনি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অস্ত্র মজুদের ওপর চাপ ফেলতে পারে। সেটিই এখন বাস্তব। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: সিএনএন