ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জে শিপ্টা রবিদাস হত্যাকাণ্ডের বিচার, জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় শ্যামগঞ্জ রেলগেটে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শ্যামগঞ্জ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস।
এ সময় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সমাজসেবক ফেরদৌস আহমেদ, রবিদাস সংগঠক মানিকলাল রবিদাস, বাদল রবিদাস, রামজিতন রবিদাস এবং নিহত শিপ্টা রবিদাসের কন্যা চম্পা রবিদাস।
বক্তারা বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতা। ভুক্তভোগী পরিবারটি সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হওয়ায় তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও দমন করার অংশ হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, রবিদাস জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এ দেশেরই নাগরিক এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকার। তাদের জীবন, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের সহায়তাও কামনা করা হয়।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলোঃ ১. শিপ্টা রবিদাস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ২. ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ৩. রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।