বিলুপ্তির পথে আয়ে-আয়ে

মাদাগাস্কার অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছে আয়ে-আয়ে প্রাণীটি সাক্ষাৎ শয়তানের দূত। স্থানীয় মানুষজন বিশ্বাস করেন, প্রাণীটি হাতের বড় আঙুল তুলে যদি কারও দিকে নির্দেশ করে, তবে তার মৃত্যু নাকি অনিবার্য! যা পুরোপুরি একটি ভ্রান্ত ধারণা। আসলে প্রাণীটি বেশ নিরীহ প্রজাতির। আয়ে-আয়ে বানর জাতীয় স্তন্যপায়ীদের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম নিশাচর। আকারেও তারা ছোটখাটো।  এদের হাতের অনামিকা একটু বড়, মোটা ও শক্তিশালী। এ ছাড়া চোখ সবুজ রঙের, বেশ উজ্জ্বল এবং হিংস্র। তাদের হাতের বড় আঙুল আর হিংস্র চোখ দেখে সাধারণ মানুষ  বেশ ভয় পায়। বড় আঙুলটির সাহায্যে প্রাণীটি গাছে গর্ত করে  পোকামাকড় ধরে। লোকালয় থেকে ফল, ফুল, ডিম চুরি করে খায়। আয়ে-আয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিশাচর প্রাইমেটগুলোর মধ্যে অন্যতম। এদের শরীর প্রায় ১৫ ইঞ্চি (৩৮ সেমি) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং লেজ শরীরের চেয়ে লম্বা। তাদের শরীর ঘন পশম এবং সাদা লোমে ঢাকা থাকে। আয়ে-আয়ের  ইঁদুরের মতো দাঁত থাকে, যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পায় এবং এদের জীবনযাত্রা ঘন গাছেই সীমাবদ্ধ।  বন্য অঞ্চলে এদের আয়ুষ্কাল সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে চিড়িয়াখানায় প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।  দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো,  এরা অকারণে প্রচুর পরিমাণে শিকার হচ্ছে। মাদাগাস্কার দ্বীপের মানুষ কুসংস্কারে নিমজ্জিত এবং মনে করে যে, এই প্রাণীগুলো তাদের জন্যে দুর্ভাগ্য বয়ে নিয়ে আসে। তাই অকারণেই তারা এই নিরীহ প্রাণীগুলোকে হত্যা করে। যার ফলে আয়ে-আয়ে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে।