আকবর প্রিতমের সেঞ্চুরি

সিলেটে কাল ছিল ব্যাটারদের রাজত্ব। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় দিনে বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন ব্যাটাররা। একাডেমি মাঠে উত্তরাঞ্চলের দুই উইকেটকিপার ব্যাটার আকবর আলী ও প্রিতম কুমার দেখা পেয়েছেন চোখধাঁধানো সেঞ্চুরির। অন্যদিকে প্রধান স্টেডিয়ামে দিনের আলো কেড়ে নিয়েছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়।

সিলেট একাডেমি মাঠে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল উত্তরাঞ্চল। মাত্র ৫৩ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে যখন দলটি ধুঁকছিল, তখন ত্রাতা হয়ে আসেন অধিনায়ক আকবর আলী ও প্রিতম কুমার। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন গড়েন ২৩৩ রানের এক দুর্দান্ত জুটি।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী সাজঘরে ফেরার আগে খেলেছেন ১২১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি ছিল তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তৃতীয় শতক। তবে প্রিতম কুমার ছিলেন আরও অবিচল। ১৮৪ বলে ১৫১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন তিনি। এটি ২৪ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটারের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ইনিংস। দিনশেষে উত্তরাঞ্চলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান, অর্থাৎ ৬৫ রানের লিড নিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে তারা।

অন্যপাশে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনটি ছিল আক্ষেপের। মধ্যাঞ্চলের আবু হায়দার রনি আগের দিনের ৯০ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামলেও এদিন কোনো রান যোগ করার আগেই খালেদ আহমেদের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সেঞ্চুরির সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। শতকের পথে থাকা অপর ব্যাটার আশিকুর রহমানও থামেন ৮৬ রানে। এই দুজনের বিদায়ে মধ্যাঞ্চল তাদের প্রথম ইনিংসে ৩০৭ রানে অলআউট হয়। পেসার ইবাদত হোসেন ৫৪ রানে ৪ উইকেট শিকার করে নিজের ধার বজায় রেখেছেন। মধ্যাঞ্চলের ৩০৭ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিল পূর্বাঞ্চল। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের ৬৪ রানের ইনিংসটি শক্ত ভিত্তি গড়ে দেয়। এরপর ক্রিজে এসে হাল ধরেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও অমিত হাসান। দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত অমিত ৮৮ রানে এবং মুশফিকুর রহিম ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন। তাদের দুজনের ব্যাটে ভর করে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে পূর্বাঞ্চল।