শেষ হাসি কার

সাগর পাড়ে স্টেডিয়াম, আনুষ্ঠানিক নাম ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম হলেও লোকমুখে পরিচিত সাগরিকা নামেই। ছাদ থেকে সাগর দেখা গেলেও পানির অভাবে স্টেডিয়ামের ঘাস শুকিয়ে বাদামি। এখানেই বৃহস্পতিবার সিরিজনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ। রাজধানীতে ১-১ সমতার পর বন্দরনগরেই হবে মেহেদি হাসান মিরাজ না টম ল্যাথাম, কার ঠোঁটে ফুটবে শেষ হাসি।

নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারলে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে অষ্টম স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানটা কমিয়ে আনতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতে হেরেই সেই সুযোগটা খুইয়েছে মিরাজের দল। সিরিজ জিতলে রেটিং পয়েন্ট ৭৯ থেকে হবে ৮১, নিউজিল্যান্ডের কমবে মাত্র ১ পয়েন্ট। তাতে করে র‌্যাংকিংয়ে দুইয়ে থাকা দলটির কোনো কিছুই আসবে যাবে না, আটকাবে না ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা। বরং সম্ভাবনা বাড়ানোর সুযোগটা বাংলাদেশেরই হয়েছে হাতছাড়া, এই ম্যাচে হারলে সেই পথটা হবে আরও কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ব্যাটিং নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ দলের কেউই গণমাধ্যমের সামনে এলেন না। পেস বোলার নাহিদ রানার সাফল্যকে পুঁজি করে কথা বললেন পেস বোলিং কোচ শন টেইট, ‘অনেক বোলার, যারা ১৩০ কিমি গতিতে বল করেন, তাদের ও রকম বাউন্সার নেই, তাই সেøায়ার বল ছাড়া তাদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে। নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টা। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’

প্রচন্ড গরমে সর্বোচ্চ গতি বজায় রেখে ১০ ওভার বোলিং করার কৃতিত্বটাকেও টেইটের কুর্নিশ, ‘এমন কন্ডিশনে এভাবে বোলিং করতে পারা প্রমাণ করে তার ফিটনেস কতটা দারুণ। এটিই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। প্রচন্ড গরমে যদি সে ১০ ওভার টানা দৌড়াতে পারে এবং ওই গতিতে বোলিং করতে পারে, সেটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। সে সত্যিই দলের একটি সম্পদ। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে হয়তো তার কিছুটা সময় লেগেছে। এখন সে তার সামর্থ্য প্রমাণ করছে। পিএসএল খেলার সময় তাকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিশ্ব এখন তাকে একটু একটু করে চিনতে শুরু করেছে।’

মিরপুরের ঘাসে ছাওয়া উইকেটে নাহিদের গতির জোরে কিউইদের হারানো গেছে, কিন্তু সাগরিকার রোদোজ্জ্বলা বাদামি মাঠে কি সেটা পারা যাবে? চট্টগ্রামের উইকেট প্রথাগতভাবে ব্যাটিং-বান্ধব। এখানে ব্যাটসম্যান নিজে ভুল না করলে তাকে আউট করাটা বোলারদের জন্য কঠিন। একে তো ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, তার ওপর প্রচন্ড গরম। বোলারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষা থেকে উৎরাতে হলে দরকার ব্যাটসম্যানদের সহায়তা। কিন্তু গত বেশ কিছুদিন ধরে দলের এই অংশটাই তো নিয়মিত ব্যর্থ হয়ে আসছে।