আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে বেড়েছে লোডশেডিং

তীব্র গরম আর জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আরও বেড়েছে লোডশেডিং। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এটি উৎপাদনে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ডিজেলচালিত কেন্দ্রও চালানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

আদানির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের বিয়ারিং থেকে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। মেরামতকাজ শেষে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ৩-৪ দিন সময় লাগতে পারে।

ভারতের ঝাড়খ- রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। পিডিবি সূত্র বলছে, কিছু দিন ধরে গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানির কেন্দ্রটি। একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন কমে ৭৫০ থেকে ৭৭০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানিসংকট দেখা দেয় বিশ্বজুড়ে। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অভাবে দেশে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ওঠে ১৫ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াটে। উৎপাদন ও চাহিদার ফারাকের কারণে এ সময় লোডশেডিং দিতে হয় প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট। দুপুরের পর থেকে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে। রাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এটি আরও বাড়তে পারে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যানুযায়ী, দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৬টি। এর মধ্যে গ্যাস স্বল্পতায় ১৩টি, জ্বালানি তেল না থাকায় ৯টি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন তালিকার বাইরে আছে। বাকি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি সৌর, যা থেকে রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ডিজেলচালিত ৫টি কেন্দ্রও বন্ধ রাখা হয় খরচ বেশি হওয়ায়। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এখন ১২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। গ্যাসসংকটের কারণে সেখান থেকে পাঁচ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না।

গরমের শুরুতে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও সব মিলিয়ে উৎপাদন করা যাচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।