শাটল ট্রেনে নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে উঠে দলীয় স্লোগান দেওয়ারকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ভিডিও করা তাকে হেনস্থার করার অভিযোগও উঠেছে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী শাটল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইনস্টিটিউটটির ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘শহীদ জিয়ার গড়া দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘গুপ্তের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জামাত-শিবির, জামাত-শিবির, গুপ্ত গুপ্ত’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। স্লোগান দেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পোশাক পরিহিত ছিলেন।

আরেক ভিডিওতে একজনকে বলতে শুনা যায়, ‘এগুলো তো মববাজি হচ্ছে, উনি (ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী) কি শিবির করে?’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শাটলটি পলিটেকনিক স্টপেজে থামলে পলিটেকনিকের বেশ কিছু শিক্ষার্থী ওঠেন। উঠে তারা চবির এক নারী শিক্ষার্থীর পাশে বসতে চাইলে তারা বহিরাগত হওয়ায় ওই শিক্ষার্থী তাদের বসতে নিষেধ করেন। পরে তারা সেখানে জড়ো হয়ে নানা উচ্চবাচ্য করতে থাকলে ছাত্রীটি ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিও করায় তারা এ ছাত্রীর ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। পরে তারা ওই নারী শিক্ষার্থীকে জামাত-শিবির বলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী একজন বৌদ্ধ-ধর্মাবলম্বী। তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নন।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, আজকে শাটলে একজন নারী শিক্ষার্থীকে চরমভাবে হেনস্থা করেছে পলিটেকনিক ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী। আমরা চাকসুর পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টা অভিযোগ আকারে প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি এবং কয়েকটি দাবি পেশ করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ওই নারী শিক্ষার্থী বলেন, তাদের একজন আমার পাশে বসতে চাইলে সে ভার্সিটির স্টুডেন্ট না  হওয়ায় আমি বসতে না করি। পরে আমার পাশ ঘেঁষে তারা সবাই জড়ো হয়ে বিভিন্ন আওয়াজ, চিল্লাফাল্লা ও অনেককিছু করতে থাকে। পরে আমি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা আমার ফোন ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এরপর তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এবং শাটল থেকে নামার সময় আমাকে উদ্দেশ্য করে তারা জোর জোরে স্লোগান ও আওয়াজ করতে থাকে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, চাকসু প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, দুপুরের দিকে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে পলিটেকনিকের কিছু শিক্ষার্থী স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে উত্যক্ত করার চেষ্টা করেছে। পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, যাতে ওইসব শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা যায়। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, পলিটেকনিক স্টপেজে শাটল ট্রেন না থামানোর জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এটি অনেক আগে থেকেই চাকসুর দাবি ছিল।