ট্রাফিক মতিঝিলের নতুন উদ্যোগে স্বস্তি শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের 

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পরীক্ষার হল কেন্দ্রীক সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ। তবে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। তাদের কথা মাথায় রেখে এবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রথম দিন সকালে পরীক্ষার আগে রাস্তায় যানজট নাকাল থাকলেও আজকে সড়কে যানজট চোখে পড়েনি। 

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনটি কেন্দ্রে অন্তত সাড়ে ৬ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে শুধু মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয়েয় পরীক্ষা দিচ্ছে ২৬ স্কুলের ২ হাজার ২২০ শিক্ষার্থী। 

এ সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরীক্ষা হলে প্রবেশে কোন সমস্যা যাতে না হয় সেজন্য তদারকি করতে দেখা যায় ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ও মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ফারজানা হকসহ সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন ‍মুহাম্মদ ফারাবী প্রমুখ।

মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা শাহিনা কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন রাস্তায় তীব্র যানজট ও স্কুলের সামনে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়ে পরীক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তবে আজকের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে ডিএমপির ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগ স্কুলের মাঠেই গাড়ি পার্কিং এবং অভিভাবকদের বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।

ডিএমপি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পরীক্ষাথীদের সঙ্গে আসা অপেক্ষারত অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্থায়ী করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সাউথ পয়েন্টের শিক্ষার্থী অর্কিতার দাদি শিরিন সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথম পরীক্ষার দিন এই এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বের হওয়ার সময় এক শিক্ষার্থী হিটস্টোক করেন।

তিনি বলেন, গতদিনে ভোগান্তির কথা চিন্তা করে পল্লবী বাসা থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়েছি। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এসে কিছুটা অবাক হয়েছি কোন ভিড় না দেখে। পরে পুলিশ সদস্যের পরামর্শে স্কুলের মাঠে প্রবেশ করে দেখি অভিভাবকদের জন্য চমৎকার ব্যবস্থা করেছেন পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার পানিসহ বসার জন্য চেয়ার সরবরাহ করা হয়েছে। এটা প্রতিটা পরীক্ষায় অবিভাবকদের জন্য করা হোক সেই দাবি জানাই।

তবে কয়েকজন অভিভাবক পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে মোবাইল ফোন টয়লেটের জন্য অনুরোধ করেছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার জন্য এই সুবিধা পেলে তাদের আর কোন কষ্ট হবে না। এ সময় পুলিশের কর্মকর্তাদের ও আগামী পরীক্ষার আগেই এর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। 

ডিএমপির ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত পরীক্ষার দিন কিছুটা অব্যবস্থাপনা হলেও আজকে শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে ডিএমপি কমিশনারের হস্তক্ষেপে আমরা পরীক্ষার্থী বহনকৃত গাড়ি গুলো স্কুল মাঠে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা সহ খাবার পানির সুবিধা রাখা হয়েছে। এতে পুরো মতিঝিল এলাকায় যান চলাচের স্বাভাবিক রয়েছে। 

তিনি বলেন, ধারাবাহিক ভাবে মতিঝিল বিভাগের প্রতিটা পরীক্ষা কেন্দ্রের মাঠেই পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আগত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে রাস্তায় কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। মতিঝিল পাশাপাশি এই তিন কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চার হাজার গাড়ি আসছে এতে পুরো এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। আজকে সব গাড়ি মাঠে পার্কিং করাই সড়কে কোনো প্রভাব পড়েনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি পরীক্ষার দিন সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। যাতে পরীক্ষা দিয়ে কোনোভাবেই ভোগান্তি পোহাতে না হয়। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এছাড়া ঢাকা শহরের প্রতিটা পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ধরনের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।