ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী নিবন্ধিত হকারদের স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা ফি দিতে হবে। ঢাকার মূল সড়কে কোনো হকার বসতে পারবেন না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য কমপক্ষে ৫ ফুট জায়গা ফাঁকা রেখে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকার নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা করতে পারবেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, হকারদের জীবিকা বন্ধ করতে চায় না সিটি করপোরেশন। তবে সারা দেশের ভাসমান মানুষকে হকার হিসেবে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়। নাগরিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে হকারদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। কেবল প্রশস্ত ফুটপাত থাকা সড়কগুলোতে নাগরিকদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা সংরক্ষণ করে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে বসার সুযোগ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন মার্কেট চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সড়ক ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনার শৃঙ্খলাও মানতে হবে। এর মাধ্যমেই হকার সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।
নিবন্ধনে ৫ হাজার, মাসে দিতে হবে ৩ হাজার টাকা
সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০(২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ডিএসসিসি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, হকারদের এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ মাসে ৩ হাজার টাকা দিতে হবে।
নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখতে হবে। হকারদের জন্য কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।
শুক্রবার-শনিবার হলিডে মার্কেট, সন্ধ্যার পর নৈশকালীন
নীতিমালা অনুযায়ী, শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট পরিচালনা করা যাবে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে মাঠ, উপাসনালয় বা কবরস্থানে এসব মার্কেট বসানো যাবে না।
নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা
স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া হকারদের নিজেদের ব্যবসার স্থান পরিষ্কার রাখা এবং নির্ধারিত বিনে বর্জ্য ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলে উচ্ছেদ এবং নিবন্ধন বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।