উষা বালার হাত ধরে ‘কেঁচো গ্রাম’, বদলে যাচ্ছে নারীদের জীবন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রামের গৃহিনী উষা বালা; নীরবে এক সম্ভাবনার দ্বার খুলেছিলেন। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে তিনিই প্রথম এই গ্রামে কেঁচো চাষ বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। তার সেই উদ্যোগই আজ পুরো গ্রামকে দিয়েছে নতুন পরিচয়। এখন অনেকেই জঙ্গল হাজারিখীলকে ‘কেঁচো গ্রাম’ হিসেবেই চেনে। 

এক সময় জীবিকার তাগিদে বন থেকে কাঠ সংগ্রহ ও বিক্রির ওপর নির্ভরশীল নারীরা এখন উষা বালার দেখানো পথ অনুসরণ করছেন। বর্তমানে এই গ্রামের প্রায় ৩০ জন নারী কেঁচো সার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত আয় করছেন এবং পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

২০২০ সাল থেকে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ এখন একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হচ্ছে। উৎপাদিত জৈব সার স্থানীয় কৃষিতে ব্যবহারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাড়তি চাহিদা ও বাজার সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নারীরা জানান, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং কার্যকর বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে এই খাত আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

পাশাপাশি কেঁচো সার বিক্রি থেকে পাওয়া আয় তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। অনেক নারী জানান, এই আয় থেকেই তারা এখন সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে পারছেন এবং পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করছেন।

হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘উষা বালার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই এই এলাকায় কেঁচো সার উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নারীদের এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, ‘ভার্মি কম্পোস্ট একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ জৈব সার, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করে। এ খাতে নারীদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।’

সামগ্রিকভাবে উষা বালার পথ দেখানো এই উদ্যোগ শুধু কয়েকজন নারীর জীবিকা নয়, বরং পুরো একটি গ্রামের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিচ্ছে। যেখানে ‘কেঁচো গ্রাম’ এখন হয়ে উঠেছে স্বাবলম্বিতার এক অনন্য প্রতীক।