উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক গোপন বৈঠকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এই তথ্য দেন। গত বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাসংস্থা এপি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্রিফিং শেষে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ‘উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই বেশি’ তৈরি হয়েছে। তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ, কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেও, কোনো সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। বৈঠকে যুদ্ধের শুরুতে ইরানের মিনাব শহরের স্কুলে হামলার বিষয়টিও উঠে আসে। ওই হামলায় প্রায় ১৬৫ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল স্কুলছাত্রী। তবে এ সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এশীয় জলসীমা থেকে ইরানের ৩টি তেলবাহী জাহাজ জব্দের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকার উপকূলের কাছ থেকে জব্দ করা ট্যাংকারগুলো তাদের গন্তব্য থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আটক হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘ডিপ সি’ নামক সুপারট্যাংকার। অপরিশোধিত তেল বোঝাই এই জাহাজটিকে এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া উপকূলে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার ছোট ট্যাংকার ‘সেভিন’ও আটক করা হয়েছে, যা ৬৫ শতাংশ তেলভর্তি ছিল। তৃতীয় ট্যাংকার ‘ডোরেনা’ সম্পূর্ণভাবে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে দক্ষিণ ভারতের উপকূলের কাছে দেখা গিয়েছিল। এ ছাড়াও ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানের তেল পরিবহনকারী একটি ‘রাষ্ট্রহীন জাহাজ’ জব্দের দাবি করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ‘এমটি ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামের ওই জাহাজটিতে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালানো হয়। দপ্তরের দাবি, জাহাজটি তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ এলাকার মধ্যে ছিল। মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই জাহাজটি ইরানের তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করলেও, তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা জানিয়েছে, গত ১৩-২২ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এই চালানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ করা এলাকা পার হতে সক্ষম হয়েছে। ছয়টি বড় ট্যাংকারে এসব তেল রপ্তানি করা হয়েছে। ট্যাংকারগুলো তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ করে যাতায়াত করছিল। অবরোধের বিষয়ে ভরটেক্সা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানি বন্দর বা হরমুজ প্রণালির খুব কাছে কার্যকর করা হচ্ছে না। বরং পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে ওমানের পশ্চিম কোণ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মাইল এলাকায় কিছুটা নমনীয়ভাবে এই অবরোধ চলছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে মোট ৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করেছে। এই তালিকায় ইরান-সংশ্লিষ্ট বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু মালবাহী জাহাজও রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি জাহাজকে তারা পথ পরিবর্তন করতে অথবা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।