বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

লোডশেডিংয়ের কবলে উত্তরের ৮ জেলা

পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। এবার সচল থাকা প্রথম ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ায় পুরো কেন্দ্রটিই অচল হয়ে পড়ল। এতে মারাত্মক লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলা।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১নং ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায় ও কুলিং ফ্যান ভেঙে গেছে। গত বুধবার রাত ১০টা ২ মিনিটে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। মেরামত কাজ চলছে, এটি মেরামত করে আবার উৎপাদন শুরু করতে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট উৎপাদনে ফিরবে আশা করছি। দ্বিতীয় ইউনিটির মেরামতের বিষয়ে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করবে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এর আগে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে ১৫ দিন পর উৎপাদনে আসে।

দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পার্বতীপুর জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহবুবুর ইসলাম জানান, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ছুটির দিন ছাড়া তার জোনে প্রতিদিনের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। কয়েক দিন থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে করে পল্লীবিদ্যুতের ৮০ হাজার গ্রাহকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০-১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ ছাড়া বিদ্যুতের ভোল্টেজ স্থিতিশীল রাখাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পার্বতীপুর কার্যালয় জানিয়েছে, পার্বতীপুর শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ মিলছে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। শহরে নেসকোর আওতাধীন প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। নেসকো’র পার্বতীপুর শহরে বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ মেগাওয়াট।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে খনির পাশেই ২০০৬ সালে গড়ে উঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০১৭ সালে তিনটি ইউনিট স্থাপিত হলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় কখনই একসঙ্গে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। তিনটি ইউনিটও একই সঙ্গে কখনই চালাতে পারেনি তাপবিদ্যুৎ কর্র্তৃপক্ষ।

জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট থেকে ৫০-৫৫ মেগাওয়াট,  ১২৫ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৪০-৫০ মেগাওয়াট ও ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট থেকে ১৪০-১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।