যামিনী রায় ব্রিটিশ আমলের ইউরোপীয় একাডেমিক ধারায় চিত্রকলার প্রশিক্ষণ নেন। প্রথমে ইউরোপীয় আধুনিক শিল্পীদের কাজ তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তবে কিছুদিন পর তিনি পাশ্চাত্য ধারা থেকে সরে এসে দেশীয় শিল্পরীতির দিকে মনোযোগ দেন। বাংলার পটচিত্র, কালীঘাট পেইন্টিং এবং গ্রামীণ কারুশিল্প তার শিল্পচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলে।
তার কাজে দেখা যায় সরলীকৃত আকার, স্পষ্ট ও শক্ত রেখা এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি রঙের ব্যবহার। এই উপাদানগুলো মিলিয়ে তিনি এমন এক শৈলী নির্মাণ করেন, যা একই সঙ্গে সহজ ও স্বতন্ত্র। রায়ের ছবিতে প্রায়ই ধর্মীয় চরিত্র, পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনের মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপ গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
বিষয়বস্তুকে বোধগম্যভাবে তুলে ধরতেন, যা তার শিল্পকে বিস্তৃত দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। লোকশিল্পে তার দক্ষতা ছিল তার সচেতন শিল্পদৃষ্টির অংশ। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্পের শক্তি তার শিকড়ে নিহিত। সেই কারণেই তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এমন কাজ সৃষ্টি করেন, যা ভারতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
অনিন্দ্য নাহার হাবীব