২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জয়ের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া ছিলেন মধ্যমণি। লিওয়েল স্কালোনিকে কোচের দায়িত্ব দিয়ে তিনি যে ফাটকা খেলেছিলেন, তার ফলস্বরূপ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে দুর্নীতি, কর ফাঁকি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত তাপিয়া ও এএফএ।
এএফএ প্রধান ক্লদিও তাপিয়া (৫৮) বর্তমানে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সাথে এক প্রকাশ্য ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত। লড়াইয়ের মূল বিষয়বস্তু হলো আর্জেন্টিনার ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো। মিলেই সরকার চাচ্ছে ক্লাবগুলোকে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে, যার তীব্র বিরোধিতা করছেন তাপিয়া।
মার্চের শেষের দিকে মিলেই সরকারের পক্ষ থেকে তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বুয়েনস আইরেসে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে যখন তাকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছিল, তখন গ্যালারি থেকে দর্শকদের দুয়ো শুনতে হয় তাকে। এটি একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, খোদ দেশের সাধারণ সমর্থকরাও এখন তাপিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ওপর অসন্তুষ্টির আরও কিছু কারণ রয়েছে:
ঘরোয়া লিগের পরিবর্তন- লিগ কাঠামোতে ঘনঘন এবং অজনপ্রিয় সব পরিবর্তন সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
দুর্বল প্রতিপক্ষের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ- বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বড় কোনো ইউরোপীয় পরাশক্তির বদলে মৌরিতানিয়ার মতো নিম্ন র্যাঙ্কিংয়ের দলের সাথে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করায় সমালোচিত হচ্ছে এএফএ। কোচ স্কালোনির দল বড় কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন না হয়েই বিশ্বকাপে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং কোচ লিওনেল স্কালোনি। গত বিশ্বকাপে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাঠের যোদ্ধারা এখন শুধুমাত্র নিজেদের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করছেন। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয়ের পর ভক্তদের চাওয়া একটাই—লিওনেল মেসি যেন তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখতে পারেন।
বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষার এই কঠিন মিশনে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা আলবিসেলেস্তেদের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।